কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের জন্য কাউকে কিছু না জানিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শুক্রবার বেলা দুইটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা ধরে ঢাকার বিভিন্ন সড়ক ও এলাকা ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালান।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির সামনের আসনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ছিলেন। গাড়ির পেছনের আসনে ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন মীরদা এবং প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মেহেদুল ইসলাম।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আবদুস সালামকে তাঁর বাসার সামনে যেতে বলেন। সেখানে গেলে তিনি আমাদের গাড়িগুলো ছেড়ে দিতে বলেন। এরপর তাঁর গাড়িতে আমাদের উঠিয়ে নেন। প্রধানমন্ত্রী কেন ডেকেছেন, কোথায় যাবেন—সে বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণা ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরে দেখি, তিনি ঢাকায় চলমান বিভিন্ন উন্নয়নকাজ এবং কোরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেমন হচ্ছে, তা সরেজমিনে দেখতে বের হয়েছেন। কয়েকটি এলাকার অবস্থা দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।’
পরিদর্শনের সময় হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিনরোড, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার এলাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্যের পাশাপাশি আগে থেকে জমে থাকা ময়লাও সড়কে পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জানান, এসব এলাকায় বর্জ্য অপসারণে অবহেলার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে।
এরপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৫-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-১-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজির। তাঁরা দুজনই উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণের জন্য ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে আগেই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শনে কয়েকটি এলাকায় সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নের ঘাটতি ধরা পড়ে।