• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৭ এএম


ভয়াল ২৯ এপ্রিল: প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে স্মৃতিতে রয়ে গেছে মৃত্যুর রাত

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ২:৪৪ পিএম

আজ ২৯ এপ্রিল—বাংলাদেশের ইতিহাসে এক শোকাবহ ও স্মরণীয় দিন। ১৯৯১ সালের এই দিনে সংঘটিত হয় ভয়াবহ ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়, যার তাণ্ডবে উপকূলীয় অঞ্চল পরিণত হয়েছিল মৃত্যুপল্লীতে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় আঘাত হেনে এই প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় কেড়ে নেয় প্রায় এক লাখ ৩৮ হাজার মানুষের প্রাণ এবং নিঃস্ব করে দেয় প্রায় এক কোটি মানুষকে। ঘণ্টায় প্রায় ২৫০ কিলোমিটার বেগের ঝড় ও প্রায় ৬ মিটার উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস উপকূলীয় বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত করে সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দেয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সন্দ্বীপ, মহেশখালী ও হাতিয়া দ্বীপাঞ্চল, যেখানে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। শুধু সন্দ্বীপেই মারা যান প্রায় ২৩ হাজার মানুষ।

এই ঘূর্ণিঝড়ে অবকাঠামোগত ক্ষতিও ছিল ব্যাপক। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়; ১০০ টনের একটি ভারী ক্রেন ভেঙে যায় এবং অসংখ্য জাহাজ, লঞ্চ ও নৌযান নিখোঁজ বা ধ্বংস হয়। কর্ণফুলি নদী তীরবর্তী কংক্রিট বাঁধ পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাসে ভেঙে পড়ে। প্রায় ১০ লাখ ঘরবাড়ি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, অসংখ্য মানুষ হয়ে পড়ে গৃহহীন। ২৯ এপ্রিল রাতের সেই ভয়াল মুহূর্ত উপকূলবাসীর জীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করে, যার স্মৃতি আজও মুছে যায়নি।

তিন দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও উপকূলীয় মানুষের মনে সেই আতঙ্ক এখনও জীবন্ত। অনেক এলাকায় এখনো টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ হয়নি, পুরোনো বাঁধগুলোও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ফলে ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাসের খবর এলেই মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৯১ সালের এই ভয়াবহ দুর্যোগ আমাদের শিখিয়ে গেছে—প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে টিকে থাকতে হলে আগাম প্রস্তুতি, সচেতনতা ও শক্তিশালী অবকাঠামোর বিকল্প নেই।