নওগাঁর মহাদেবপুরে স্ত্রী থাকা অবস্থায় শ্যালিকাকে বিয়ে করাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়েছেন টিকটকার মাসুদ রানা। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা, ফেসবুক লাইভে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ, কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি এবং স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁর মুখে কালি মাখিয়ে গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেয়। পরে নিজের ভুল স্বীকার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান মাসুদ রানা এবং এক স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ঘোষণা দেন।মাসুদ রানার বিয়ের ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফেসবুক লাইভে এসে দর্শকদের উদ্দেশে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন তিনি। লাইভে দুই বোনকে একই সঙ্গে বিয়ে করার ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানেন বলেও মন্তব্য করেন মাসুদ। এতে তাঁকে ঘিরে সমালোচনা আরও তীব্র হয়।এদিকে নওগাঁ জজ কোর্টের আইনজীবী শাহীন কাদির ডলার তাঁকে নিজের সেরেস্তার কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।এরপর বদলগাছীর ভাড়া বাসা ছাড়তে তাঁকে তিন ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন স্থানীয়রা। পরে ভাড়া বাসার আসবাবপত্র এবং দুই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মহাদেবপুরের মাতাজিহাট এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নিতে যান মাসুদ রানা। সেখানে পৌঁছানোর পর স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি।একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে অবরুদ্ধ করে মুখে কালি মাখিয়ে গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেয়। পরে রাইগাঁ পুলিশ ফাঁড়ির সহযোগিতায় জনতার হাত থেকে মুক্ত হন মাসুদ। এরপর দুই স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়িতে রেখে সেখান থেকে চলে যান তিনি। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।তবে ঘটনার পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি থেমে থাকেনি। ওই রাতেই রাত ১১টার দিকে বদলগাছীতে আবারও দেখা যায় মাসুদ রানাকে। এ সময় এক সচেতন নাগরিক তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। পরে ভিডিও বার্তায় নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চান তিনি। নিজের কাজকে ভুল বলে স্বীকার করে এক স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ঘোষণা দেন মাসুদ। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ওই এলাকায় আর যাবেন না বলেও জানান তিনি।একটি বিয়েকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক, কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি, এলাকা ছাড়ার পরিস্থিতি এবং শেষপর্যন্ত প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনায় নওগাঁজুড়ে আলোচনা চলছে। তবে এক স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।এ বিষয়ে জেলা কাজী সমিতির সভাপতি মাওলানা আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তাঁর আপন বোনকে বিয়ে করা শরিয়তসম্মত নয়। তবে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটলে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী পরবর্তী বিয়ের সুযোগ রয়েছে।মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
/বিএসএস