• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৯ এএম


লো’ডশেডিং হলেই হাওয়া, দুই মাসে মাদারগঞ্জে ২৬ ট্রান্সফরমার চু’রি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮:৫৪ পিএম

জামালপুরের মাদারগঞ্জে গত দুই মাসে অন্তত ২৬টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় বিদ্যুৎ গ্রাহকদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। চুরি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

মাদারগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের আওতাধীন এলাকায় গত ২ জুলাই থেকে এসব ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে জুলাই মাসে ছয়টি, আগস্টে ১৭টি এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম পাঁচ দিনে আরও তিনটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। চুরি যাওয়া এসব ট্রান্সফরমারের বাজারমূল্য প্রায় ১৭ লাখ টাকা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, লোডশেডিংয়ের সময় অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে চোরচক্র ট্রান্সফরমারগুলো চুরি করছে। তাদের প্রশ্ন, বিদ্যুৎ কখন বন্ধ হবে এবং কতক্ষণ সরবরাহ থাকবে না—এ ধরনের তথ্য চোরেরা আগে থেকেই কীভাবে জানতে পারছে। বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারও কাছ থেকে চোরেরা তথ্য পাচ্ছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সর্বশেষ ৫ সেপ্টেম্বর রাতে বালিজুড়ী ইউনিয়নের সুখনগরী এলাকায় একটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, ট্রান্সফরমারের ভেতরে থাকা তামার কয়েলসহ মূল্যবান ধাতুর জন্যই এসব ট্রান্সফরমার চুরি করা হচ্ছে।

ট্রান্সফরমার চুরির পর নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করতেও সময় লাগছে। এতে কোনো কোনো এলাকায় দিনের পর দিন বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের। এ ছাড়া নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের জন্য নির্ধারিত মূল্যের অর্ধেক টাকা গ্রাহকদের দিতে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। একই ট্রান্সফরমার দ্বিতীয়বার চুরি হলে এর পুরো মূল্যও গ্রাহকদের বহন করতে হয় বলে জানা গেছে।

মাদারগঞ্জ পৌরসভার গ্রাবেরগ্রাম আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা রাসেল আহমেদ বলেন, গত ২৯ আগস্ট প্রকল্পটির ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। নতুন ট্রান্সফরমার বসানোর জন্য তাদের অর্ধেক টাকা দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু টাকা জোগাড় করতে না পারায় প্রকল্পের অন্তত ৪০টি পরিবার এখনো বিদ্যুৎহীন রয়েছে।

মাদারগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের ডিজিএম সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, চলতি বছরে ২৮টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রান্সফরমার চুরি প্রতিরোধে গ্রাহকদের সচেতন করা হয়েছে।

মাদারগঞ্জ মডেল থানার ওসি স্নেহাশীষ রায় বলেন, গত প্রায় দুই মাসে ২৬টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এসব চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। রাতে টহল বাড়ানো হয়েছে এবং একটি বিশেষ দলও মাঠে কাজ করছে।

মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি এলাকায় ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা বেড়েছে। রাতে টহল বাড়ানোর বিষয়ে থানার ওসির সঙ্গে কথা হয়েছে। চুরি প্রতিরোধে পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে লোডশেডিংয়ের সময়সূচি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

/এসএন