• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৮ এএম


সার বিতরণে দেরি, ডিলারের গুদাম ভে’ঙে বস্তা নিয়ে গেলেন কৃষকেরা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯:২২ পিএম

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নে সার বিতরণে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে এক ডিলারের গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা শতাধিক বস্তা সার নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বন্দবেড় বাজারের মেসার্স মিতা হাসান এন্টারপ্রাইজের গুদামে এ ঘটনা ঘটে।

ডিলারের দাবি, গুদাম থেকে এক থেকে দেড় শ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে সার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বসুনিয়া। তিনি বলেন, বন্দবেড় ইউনিয়নে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। কিছু কৃষক হুড়োহুড়ি করে বস্তা নিয়ে গেছেন। সেটিকেই লুটের ঘটনা দাবি করে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় একাধিক কৃষক জানান, সোমবার বন্দবেড় বাজারে সার বিতরণের কথা ছিল। এ কারণে কৃষকেরা রাত দুইটা থেকেই গুদামের সামনে এসে লাইনে দাঁড়াতে শুরু করেন। কিন্তু সার বিক্রির নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও ডিলার পয়েন্টে ডিলার, কৃষি কর্মকর্তা কিংবা পুলিশ-প্রশাসনের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। এতে অপেক্ষমাণ কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।

একপর্যায়ে সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে কৃষকেরা গুদামের টিনের বেড়া ও দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে তারা গুদাম থেকে শতাধিক বস্তা সার নিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন কৃষক গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে সারের বস্তা বের করছেন। তাদের কেউ মাথায় করে এবং কেউ ভ্যানে করে সারের বস্তা নিয়ে যাচ্ছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে নিয়ে যাওয়া সার আর ফেরত পাওয়া যায়নি।

সার ডিলারের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সার বিতরণ শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে তিনি ইউএনওর কাছে যান। এর মধ্যেই ধৈর্যহারা কৃষকেরা গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে সারের বস্তা নিয়ে যান।

তিনি জানান, পরে কয়েকজন কিছু বস্তা ফেরত দিয়ে গেছেন। আবার অনেকে সারের বস্তা সড়কের পাশে ফেলে রেখে গেছেন। কেউ কেউ নেওয়া সারের মূল্যও পরিশোধ করেছেন।

সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, ‘গত ৩১ আগস্ট তিন শতাধিক বস্তা ইউরিয়া সার বিক্রি করা হয়েছিল। আজ ঘরে ৭৩৯ বস্তা সার ছিল। সারের কোনো সংকট ছিল না। কিন্তু কৃষকেরা নিজেরাই গন্ডগোল ও হুড়োহুড়ি শুরু করেন। আমরা প্রশাসনকে ডাকতে গেছি। এরই মধ্যে ঘরের একদিকের বেড়া ও দরজা ভেঙে তাঁরা কিছু বস্তা সার নিয়ে গেছেন।’

পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় গুদামে থাকা অবশিষ্ট সার বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানান সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, সার বিতরণের হিসাব শেষ হওয়ার পর কত বস্তা সার নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

রৌমারী থানার ওসি কাওসার আলী বলেন, সকালে সার বিতরণের সময় পুলিশকে জানানো হয়নি। এ সময় কৃষকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েক বস্তা সার নিয়ে যান বলে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

/এসএন