• ঢাকা
  • বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪১ এএম


রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে শ্বাসরো’ধে হ’ত্যা, জানাল ময়নাতদন্ত

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৪ আগস্ট ২০২৬ ৭:৫৭ পিএম

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চার সদস্যকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক। মরদেহগুলোর মুখের কাছে পাওয়া তরল পদার্থ কোনো রাসায়নিক বা কেমিক্যাল বার্নের কারণে তৈরি হয়নি। পচন প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণেই মুখের রং ও চেহারা কালচে হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বেলা ২টা ৪০ মিনিটের দিকে মুঠোফোনে রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বাবলু কুমার বিশ্বাস এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মরদেহ পচতে শুরু করলে শরীরের পোশাকের বাইরে থাকা অংশগুলো অনেক সময় কালচে হয়ে যায়। নিহত চারজনের মুখেও একই ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে।

বাবলু কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘ওটা কোনো ধরনের কেমিক্যাল বার্ন বা এরকম কোনো কিছু ছিল না।’ তার ভাষ্য, রক্ত ও শরীরের টিস্যু পচে যাওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ধীরে ধীরে রং পরিবর্তিত হয়ে মুখ কালচে দেখাতে পারে।

হত্যার ধরন সম্পর্কে জানতে চাইলে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বলেন, ‘শ্বাসরোধ করেই হত্যা করা হয়েছে।’ ধস্তাধস্তির কারণে শরীরের বিভিন্ন স্থানে সামান্য আঘাতের চিহ্ন থাকতে পারে বলেও জানান তিনি। তবে এর বাইরে উল্লেখযোগ্য কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানান বাবলু কুমার বিশ্বাস।

এর আগে চারজনের মরদেহ উদ্ধারের সময় পুলিশ তাদের মুখের কাছে তরল পদার্থ দেখতে পায়। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছিল, মরদেহগুলোর মুখ বীভৎস দেখাচ্ছিল। এ কারণে মরদেহে কোনো রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।

রোববার রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) সুমিত চৌধুরী জানিয়েছিলেন, নিহত চারজনের মুখের কাছে তরল পদার্থ পাওয়া গেছে। কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য বিষয়টি ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসককে জানানো হয়।

তবে ময়নাতদন্ত শেষে চিকিৎসক জানিয়েছেন, মরদেহে কেমিক্যাল বার্নের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পচন প্রক্রিয়ার কারণেই মুখের রং ও চেহারায় পরিবর্তন ঘটেছে।

নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ছেলে প্রিয়ম ও মেয়ে আগামী। শনিবার রাতে নগরের মাছুয়াপাড়ার বাড়ি থেকে পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।

স্বজনেরা জানান, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর থেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। শনিবার বাড়িতে গিয়ে স্বজনেরা চারজনের মরদেহ দেখতে পান। পরে তারা পুলিশকে খবর দেন।

পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে রোববার সন্ধ্যায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই রাতেই নগরের দখিগঞ্জ শ্মশানে চারজনের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

এ ঘটনায় শনিবার রাতেই প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস (২৩) ও মুগ্ধ দাসকে (১৯) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন আদালত-২-এ তাদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হয়। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

রোববার রংপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী। মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি। অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে।

এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রোববার থেকে রংপুর জেলা স্কুল, কারমাইকেল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা বিক্ষোভ করছেন।

/এসএন