• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৫ এএম


স্কুলের বাথরুম থেকে হাত-পা-মুখ বাঁধা অবস্থায় ছাত্রী উদ্ধার

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২১ আগস্ট ২০২৬ ১২:৩৮ পিএম

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় বিদ্যালয় ছুটির প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর একটি স্কুলের বাথরুম থেকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকা বাথরুমের ভেতর থেকে গোঙানির শব্দ শুনে নির্মাণশ্রমিকরা তালা ভেঙে তাকে বের করে আনেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে তাকে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে উপজেলার গাজীরহাট হাজী নঈম উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া ছাত্রী ওই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃণাল কান্তি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর ২টার দিকে বিদ্যালয়ের ছুটি হয়। এরপর শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা স্কুল থেকে চলে যান। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজে নিয়োজিত কয়েকজন শ্রমিক একটি বাথরুমের ভেতর থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শুনতে পান।

কাছে গিয়ে তারা নারীকণ্ঠের গোঙানির শব্দ শুনে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করেন। পরে বাথরুমটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পান তারা। এরপর তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এক স্কুলছাত্রীকে হাত, পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন নির্মাণশ্রমিকরা।

পরে শ্রমিকরা ছাত্রীকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসক মফিজুর রহমান শাফিনের চেম্বারে নিয়ে যান। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, উদ্ধার হওয়া ছাত্রী বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। তার মা শিমুল রায় বলেন, দুপুর ২টায় স্কুল ছুটি হওয়ার পর নন্দিতা বিদ্যালয়ের বাথরুমে ঢোকে। তখন পেছন থেকে কেউ তার মাথায় আঘাত করে। এতে সে মাটিতে পড়ে যায়। পরে দুর্বৃত্তরা তার হাত, পা ও মুখ বেঁধে তাকে বাথরুমের ভেতরে ফেলে রেখে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শিমুল রায় আরও অভিযোগ করেন, তার মেয়ের শরীরে একটি ইনজেকশন পুশ করা হয়েছে। পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্লেড দিয়ে কেটে রক্তাক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ঘটনার বিষয়ে খুলনার দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই ছাত্রী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছে। তবে হামলাকারীদের সে দেখতে পায়নি। এ কারণে বিস্তারিত কোনো তথ্য সে জানাতে পারেনি।

ওসি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।

/এসএন