একটি মসজিদ, একটি মিহরাব এবং একই ইমামের পেছনে প্রজন্মের পর প্রজন্ম নামাজ আদায়ের বিরল দৃষ্টান্ত গড়ে উঠেছে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দারিয়াকান্দা গ্রামের মজিদ মণ্ডল বাড়ির জামে মসজিদে। টানা ৫৫ বছর ইমামতি করে মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন হাফেজ আব্দুল কদ্দুস। তার দীর্ঘ ধর্মীয় ও সামাজিক সেবার স্বীকৃতি হিসেবে এবার নিজ খরচে নয়, বরং এলাকাবাসীর অর্থায়নে পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য তাকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে।বুধবার (৫ আগস্ট) গ্রামের মুসল্লি, প্রবাসী এবং শুভানুধ্যায়ীদের সম্মিলিত উদ্যোগে তাকে সৌদি আরবের উদ্দেশে বিদায় জানানো হয়। বিদায়ের সময় মসজিদ প্রাঙ্গণে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শত শত মুসল্লি, গ্রামবাসী ও স্বজন ফুলেল শুভেচ্ছা, দোয়া ও শুভকামনার মধ্য দিয়ে প্রিয় ইমামকে বিদায় জানান।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৭১ সালে তরুণ বয়সে মজিদ মণ্ডল বাড়ির জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন হাফেজ আব্দুল কদ্দুস। এরপর থেকে টানা ৫৫ বছর ধরে তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে ইমামতি, জুমার খুতবা প্রদান, শিশুদের কোরআন শিক্ষা, জানাজা পরিচালনা, বিয়ে পড়ানো এবং পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তিসহ নানা ধর্মীয় দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে আসছেন। তার হাত ধরেই গ্রামের বহু শিশু কোরআন শিক্ষা সম্পন্ন করেছে।স্থানীয় বাসিন্দা একেএম ফজলুল হক বলেন, “ইমাম সাহেব শুধু নামাজ পড়াননি, তিনি আমাদের সন্তানদের মানুষ হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। সততা, ন্যায়নীতি ও ইসলামের আদর্শ নিয়ে তিনি সবসময় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। এত দীর্ঘ সময় একই নিষ্ঠায় দায়িত্ব পালন করা সত্যিই বিরল।”ওমরাহে পাঠানোর অন্যতম উদ্যোক্তা ফরিদ আহমেদ লালু বলেন, “আমরা ভেবেছি, যিনি জীবনের ৫৫ বছর আল্লাহর ঘরে মানুষের নেতৃত্ব দিয়েছেন, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা আমাদের দায়িত্ব। তাই গ্রামের মানুষ, প্রবাসী ভাই এবং শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় তাকে ওমরাহে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছি। এটি আমাদের ভালোবাসার প্রকাশ।”
/বিএসএস