• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম


ময়মনসিংহে নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর নদীতে মিলল ৫ বছরের শিশুর মরদেহ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৫ জুন ২০২৬ ৮:৪২ পিএম

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ কংস নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও রক্তক্ষরণের আলামত দেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা।

নিহত নিশামনি উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামের তাজু মিয়ার মেয়ে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৪ জুন) বিকেলে বাড়ির পাশ থেকে নিখোঁজ হয় শিশুটি। এরপর পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয়রা কংস নদীতে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে পরিবারকে খবর দেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বজনরা মরদেহটি নিশামনির বলে শনাক্ত করেন।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, মরদেহ উদ্ধারের পর গোসল করানোর সময় শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান তারা। এছাড়া গলা ও বুকে কামড়ের মতো দাগ এবং শরীরের বিশেষ স্থান থেকে রক্তক্ষরণের আলামতও ছিল। এসব কারণে শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তারা।

নিহত শিশুটির স্বজন ফারহানা ইসলাম ঈষিতা বলেন, “মাত্র পাঁচ বছরের একটি নিষ্পাপ শিশুকে ধর্ষণ করে নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

খবর পেয়ে ধোবাউড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, শিশুটির শরীরে কিছু আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের ঘটনা ঘটতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের ফলাফল এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় টাঙ্গাহাটি গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। /এএসএফ