• ঢাকা
  • শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩১ পিএম


অভি'যোগ প্রমাণিত হলে আইনি সহায়তা পাবে ভু'ক্তভোগী: ছাত্রশিবির

ধ’র্ষণ মা’মলার আসামি জিসানকে বহি’ষ্কার করল ছাত্রশিবির

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৩ জুন ২০২৬ ৮:০৪ পিএম

কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় দায়ের হওয়া ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা মো. জিসান আহম্মেদ প্রধানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর শনিবার (১৩ জুন) এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ছাত্রশিবির।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, অভিযুক্ত জিসান আহম্মেদের সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর প্রেমের সম্পর্কের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় সংগঠনের বিধি অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জিসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর যেকোনোটি প্রমাণিত হলে ভুক্তভোগী নারীকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা প্রদান করবে ছাত্রশিবির।

তবে পুরো নিখোঁজ হওয়া এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া নিয়ে সংগঠনটির আপত্তির কথাও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ছাত্রশিবির দাবি করেছে, পুলিশ জিসানকে উদ্ধারের পর থেকে শনিবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত তার সঙ্গে সংগঠনের কোনো প্রতিনিধি কিংবা পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এছাড়া তিনি এখনো পুলিশ হেফাজতে থাকায় নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সম্পর্কে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

বিবৃতিতে মামলা দায়েরকারী নারীর বড় বোন সাবিকুন্নাহারের তথ্যও তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, শুক্রবার বিকেলে ১৫ থেকে ২০ জন পুলিশ বা প্রশাসনের সদস্য তাদের বাড়ি থেকে ওই নারীকে নিয়ে যান এবং পরিবারের কাউকে সঙ্গে যেতে দেওয়া হয়নি। বর্তমানে ওই নারী ও তার বাবাকে পুলিশের জিম্মায় আলাদা করে রাখা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। পরিবারের সদস্যরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

ছাত্রশিবিরের দাবি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারীর বড় বোন প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি জানতেন। তবে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া, থানায় মামলা দায়ের এবং পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ না থাকায় ঘটনার প্রকৃত অবস্থা এখনো স্পষ্ট নয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এস এম ফরহাদ বলেন, ‘সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে প্রেমের সম্পর্ক প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভুক্তভোগীকে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।’

এর আগে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগ এনে এক বিধবা নারী জিসান আহম্মেদ প্রধানকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেন। জিসান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন।

দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল বারী জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট ধর্ষণ মামলায় জিসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

/এসএন