বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক মো. জিসান মিয়া প্রধান নিখোঁজ হননি, বরং আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ‘নিখোঁজ’ হওয়ার ২৩ ঘণ্টা পর তাকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে শুক্রবার (১২ জুন) রাতে গণমাধ্যমে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠায় কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ৮টা ২৯ মিনিটে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক মো. জিসান মিয়া প্রধান দাউদকান্দি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়েছেন মর্মে শুক্রবার দাউদকান্দি থানায় তার পক্ষে মো. রাসেল আহম্মেদ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে দাউদকান্দি বাজার এলাকা থেকে জিসান নিখোঁজ হন।
জিডি পাওয়ার পরপরই পুলিশ অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করে। জিসানকে উদ্ধারের জন্য জেলা পুলিশের একাধিক দল মাঠে নামে। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে জিসানের চাচাতো ভাই সজীবের মাধ্যমে জানা যায়, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক ২৫ বছর বয়সী বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ শুরু হয় এবং একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অনুসন্ধানে জানা যায় যে, গত ২০ মে দাউদকান্দি থানার আওতাধীন জিসানের ভাড়া বাসায় ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হলে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে জিসান ওই নারীকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দেন এবং সন্তান নষ্ট না করলে হত্যার হুমকিও দেন বলে অভিযোগ করা হয়। প্রাণের ভয়ে একপর্যায়ে ওই নারী গর্ভপাত করাতে সম্মত হন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জিসান তার বন্ধু সেকান্দার আলীর ওষুধের দোকান থেকে গর্ভপাতের ট্যাবলেট সংগ্রহ করে ওই নারীকে খাওয়ান। এতে ভ্রূণ নষ্ট হয়। পরে নারীর শারীরিক সুস্থতার জন্য জিসান তার চাচাতো ভাই সজীবের মাধ্যমে ফার্মেসি থেকে আরও ওষুধ সংগ্রহ করে ভুক্তভোগীর বাড়িতে পাঠান।
পুলিশ জানায়, পরবর্তীতে ওই নারী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে জিসান ১২ জুন বিয়েতে সম্মত হন। তবে এর আগেই ১১ জুন রাত ৮টার পর বিয়ে না করার উদ্দেশ্যে তিনি আত্মগোপনে চলে যান বলে পুলিশের দাবি। একই সঙ্গে তার চাচাতো ভাই মো. রাসেল আহম্মেদের মাধ্যমে নিখোঁজ হওয়ার জিডি করানো হয়।
নিখোঁজের জিডির অনুসন্ধান চলাকালে কুমিল্লার লাকসাম থানার স্থানীয় লোকজন এবং লাকসাম থানা পুলিশের সহায়তায় আত্মগোপনে থাকা জিসান মিয়া প্রধানকে উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরে ভুক্তভোগী নারী থানায় উপস্থিত হয়ে জিসানকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা এবং ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
/এসএন