• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম


স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার পরিকল্পনা সরকারের

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১১ জুন ২০২৬ ৮:২৩ পিএম

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে ব্যাপক সংস্কার ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে নারী শিক্ষাকে আরও উৎসাহিত করতে মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।

একই সঙ্গে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ সরবরাহের উদ্যোগ এবং প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষা খাতকে এবারের বাজেটের অন্যতম অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। কারিকুলাম সংস্কার থেকে শুরু করে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার নানা উদ্যোগ এতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বর্তমান বিএনপি সরকারের এটি প্রথম বাজেট। প্রস্তাবিত বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সারা দেশে ধাপে ধাপে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও হাইজিন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন, বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা এবং ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বিজ্ঞান মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সাহিত্যচর্চাসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের কথাও বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতির দিকে আরও এগিয়ে যাবে। তবে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সক্ষমতা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এছাড়া শিক্ষা খাতে সরকারি ব্যয় ধাপে ধাপে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে একাধিক নতুন কর্মসূচি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ, নেতৃত্বগুণ এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, ক্রীড়া এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে শিক্ষার মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা ব্যবস্থায় ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য চাপমুক্ত ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ধাপে ধাপে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফরাসি এবং জার্মান ভাষা শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া এসব দেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

/এসএন