যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক বিমান হামলার জবাবে এবার পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভোরে কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন বিমানঘাঁটিগুলোতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। খবর সিএনএনের।
হামলার পর কুয়েতজুড়ে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। অন্যদিকে বাহরাইনে দ্বিতীয়বারের মতো বিমান হামলার সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে ‘প্রতিশোধমূলক আঘাত’ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। আইআরজিসির দাবি, বাহরাইনের একটি এবং কুয়েতের দুটি বিমানঘাঁটিসহ অঞ্চলজুড়ে মোট ১৮টি ‘গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ সফল হামলা চালানো হয়েছে।
কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা দেশটির সেনাবাহিনীর বরাতে জানিয়েছে, দেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করা একাধিক ‘শত্রুভাবাপন্ন লক্ষ্যবস্তু’ ধ্বংস করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো সক্রিয়ভাবে অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক জরুরি বার্তায় নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বার্তায় বলা হয়, “শহরজুড়ে বিমান হামলার সাইরেন বাজানো হয়েছে। সকল নাগরিক ও বাসিন্দাকে শান্ত থাকার এবং দ্রুত নিরাপদ আশ্রয় বা বাঙ্কারে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”
একই দিনে বাহরাইনে দু’বার যুদ্ধকালীন সতর্কতা সাইরেন বাজানো হয়েছে, যা পুরো দেশজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের জেরে পরিস্থিতি এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত সোমবার হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার পর বুধবার ও বৃহস্পতিবার ভোরে ইরানের মূল ভূখণ্ডে ব্যাপক হামলা চালায় মার্কিন বিমান, নৌ ও মেরিন বাহিনী।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
এর জবাবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে এই পাল্টা হামলা চালিয়েছে তেহরান। এর আগে ইরান উপসাগরীয় আরব দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছিল, তাদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটি থেকে যেন ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযান পরিচালিত না হয়।
তেহরানের দাবি, সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) হামলার ফলে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
অন্যদিকে সিএনএনের তেহরানভিত্তিক প্রতিনিধি ফ্রেড প্লেইটজেন জানিয়েছেন, ইরানের এই পাল্টা আঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
/এএসএফ