• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০১ পিএম


রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত বিচার দেশের ইতিহাসে মাইলফলক: আইনমন্ত্রী

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৭ জুন ২০২৬ ১০:২১ পিএম

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মাত্র কয়েক কার্যদিবসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন হওয়াকে দেশের বিচার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

রোববার (৭ জুন) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, রামিসার নির্মম মৃত্যু পুরো জাতিকে নাড়া দিয়েছিল। এই মামলার ফাঁসির রায় কার্যকর হলে সেই শোক ও ক্ষোভের ভার অনেকটাই লাঘব হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে বিচার পাওয়ার বিষয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করা হয়েছিল। অতীতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি তাদের আস্থা কমে গিয়েছিল। তবে সরকার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করেছে।

তিনি জানান, গত ১৯ মে পল্লবীতে রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হওয়ার মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। ঘটনার পরপরই প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস দেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, পুলিশ মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। একই দিন বিকেলে মামলাটি সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

তিনি আরও বলেন, বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার পথে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ১ জুন থেকে শুরু হওয়া নিম্ন আদালতের ১৫ দিনের গ্রীষ্মকালীন ছুটি। তবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোকে সচল রাখতে সরকারের অনুরোধে প্রধান বিচারপতি বিশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং এসব ট্রাইব্যুনালকে ছুটির আওতার বাইরে রাখা হয়।

মামলার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে ২৪ মে আসামিদের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। ঈদের ছুটি শেষে ১ জুন আদালত খোলার দিনই অভিযোগ গঠন করা হয়। পরদিন ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। পরবর্তী দুই দিনে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ করা হয়।

শুক্র ও শনিবার আদালত বন্ধ থাকার পর ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেহীন রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার সহযোগী স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

আইনমন্ত্রী বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে শুধু একটি মামলার নিষ্পত্তিই হয়নি, বরং বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি চীনের নেতা মাও সেতুংয়ের একটি উক্তি উল্লেখ করে বলেন, কিছু মৃত্যু থাই পাহাড়ের মতো ভারী হয়, আর কিছু মৃত্যু পাখির পালকের মতো হালকা। রামিসার মৃত্যু ছিল জাতির বুকে পাহাড়সম ভার, যা এই রায়ের মাধ্যমে কিছুটা হলেও লাঘব হবে।

তিনি আরও জানান, রামিসা হত্যা মামলার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়াও দ্রুত শেষ করতে সরকার বিশেষ তদারকি অব্যাহত রেখেছে।

/এএসএফ