• ঢাকা
  • সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:০২ এএম


পাকিস্তানকে নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি ভারতের সেনাপ্রধানের

‘মানচিত্রে থাকবে নাকি ইতিহাসে হারাবে, সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের’

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৬ মে ২০২৬ ১১:০০ পিএম

পাকিস্তান যদি তাদের ভূখণ্ডে সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় দেওয়া এবং ভারতের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ না করে, তাহলে ভবিষ্যতে তারা বিশ্বের মানচিত্রে টিকে থাকবে নাকি ইতিহাসের অংশ হয়ে যাবে—সেই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানকেই নিতে হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী।

শনিবার (১৬ মে) নয়াদিল্লির মানেকশ সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘ইউনিফর্ম আনভেইল্ড’ প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সেনা সংবাদ’ শীর্ষক একটি ইন্টারেক্টিভ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পাকিস্তানের উদ্দেশে এই কড়া বার্তা দেন ভারতের সেনাপ্রধান।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে দেওয়া তার এই বক্তব্য নতুন করে দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, গত বছর পরিচালিত ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর মতো পরিস্থিতি আবার সীমান্তে সৃষ্টি হলে ভারতীয় সেনাবাহিনী কী ধরনের জবাব দেবে। এর উত্তরে তিনি তার আগের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি আগে আমার বক্তব্য শুনে থাকেন, তবে জানেন আমি কী বলেছিলাম… পাকিস্তান যদি ক্রমাগত সন্ত্রাসবাদীদের লালন-পালন করতে থাকে এবং ভারতের ক্ষতি করার চেষ্টা চালিয়ে যায়, তবে তাদেরই এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা নিজেদের ভূগোলের অংশ হিসেবে টিকিয়ে রাখবে নাকি ইতিহাসের পাতায় বিলীন করে দেবে।’

ভারতীয় সেনাপ্রধানের এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন মাত্র কয়েক দিন আগেই ভারত সরকার ও দেশটির সশস্ত্র বাহিনী জাঁকজমকপূর্ণভাবে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর প্রথম বার্ষিকী পালন করেছে।

গত বছরের মে মাসের শুরুতে কাশ্মীরের পাহালগামে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিদের চালানো ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ওই সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। হামলার প্রতিশোধ নিতে এবং সন্ত্রাসবাদ দমনের লক্ষ্য নিয়ে গত বছরের ৭ মে ভোরে ভারতীয় সামরিক বাহিনী পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ড এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) বিভিন্ন সন্ত্রাসী ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে সমন্বিত বিমান ও সামরিক হামলা চালায়। সামরিক ইতিহাসে এই অভিযান ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামে পরিচিত।

ভারতের ওই আকস্মিক হামলার পর পাকিস্তানও পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। এর জবাবে ভারতের পরবর্তী প্রতিরোধমূলক সামরিক কার্যক্রমও একই অভিযানের আওতায় পরিচালিত হয়।

দুই দেশের মধ্যে টানা ৮৮ ঘণ্টাব্যাপী সামরিক সংঘাত ও আকাশযুদ্ধ পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছিল। পরে দুই দেশের শীর্ষ কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে আলোচনা শেষে ১০ মে সন্ধ্যায় একটি গোপন ও পারস্পরিক যুদ্ধবিরতি সমঝোতায় পৌঁছানো হলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

তবে অপারেশন সিন্দুরের প্রথম বার্ষিকীতে ভারতীয় সেনাপ্রধানের সাম্প্রতিক এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সীমান্ত উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।

/এসএন