• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২২ পিএম


ভুল চিকিৎসায় কারিনা কায়সারের মৃত্যু?

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৬ মে ২০২৬ ২:৪১ এএম

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের মৃত্যু শুধু শোবিজ অঙ্গনেই শোকের ছায়া ফেলেনি, নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ‘ভুল চিকিৎসা’ বা চিকিৎসাগত অবহেলার অভিযোগের পুরোনো বিতর্কও। কারিনার বাবা, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদের বক্তব্যে সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

ঢাকা ট্রিবিউনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কায়সার হামিদ অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে ভুল চিকিৎসার কারণেই মেয়ের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় কারিনাকে। প্রাথমিক চিকিৎসা ও লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার পরই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকে।

কায়সার হামিদ বলেন, “ঢাকায় তাকে ভুল চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ভুল মেডিকেল প্রসিডিউর অনুসরণ করা হয়েছিল, যা তার অবস্থাকে আরও জটিল করে তোলে।”

তিনি আরও দাবি করেন, চিকিৎসার সময় অপ্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ, এমনকি অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ও ঘুমের ওষুধও দেওয়া হয়েছিল, যা কারিনার ফুসফুসে জটিলতা তৈরি করে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা প্রথমে তার ফুসফুসের অবস্থা স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেন। এরপর লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতি চলছিল।

কারিনাকে গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চেন্নাই নেওয়া হয়। সেখানে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মা ও দুই ভাই। কায়সার হামিদ জানান, কারিনার দুই ভাই—মোস্তফা এস হামিদ ও সাদাত হামিদ—লিভার ডোনেট করতে সম্মতি দিয়েছিলেন। রক্তের গ্রুপ মিল থাকায় ছোট ভাই সাদাতের লিভারের একটি অংশ প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনাও ছিল।

তবে শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কারিনা কায়সার।

এই ঘটনার পর আবারও সামনে এসেছে দেশের স্বাস্থ্য খাতে জবাবদিহির প্রশ্ন। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব, প্রয়োজনহীন পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অতিরিক্ত ওষুধ প্রয়োগ এবং সমন্বয়হীন চিকিৎসার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। গুরুতর রোগীদের ক্ষেত্রে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার প্রবণতাও দিন দিন বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসাব্যবস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা প্রটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ, চিকিৎসকদের জবাবদিহি নিশ্চিত এবং অভিযোগ তদন্তে কার্যকর স্বাধীন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে স্বচ্ছ যোগাযোগ বজায় রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কারিনা কায়সার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্টের জন্য জনপ্রিয় ছিলেন। পরে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজেও যুক্ত হন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।

কারিনার মৃত্যু এখন শুধু একজন তরুণ শিল্পীর অকালপ্রয়াণের ঘটনা নয়, বরং দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ও ক্ষোভের প্রতীক হিসেবেও আলোচনায় উঠে এসেছে।