• ঢাকা
  • সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১১ এএম


বরিশালে প্রাথমিক শিক্ষায় সাড়ে ৬ হাজার পদ শূন্য, সংকটে পাঠদান

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩ মে ২০২৬ ২:০৬ পিএম

বরিশাল বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা বর্তমানে সাড়ে ৬ হাজার শূন্যপদের ভার নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এখানে কর্মকর্তা ও শিক্ষক-কর্মচারীদের অনুমোদিত মোট ৩৮ হাজার ৯৫৩টি পদের মধ্যে ৬ হাজার ৪৪৯টি পদই খালি রয়েছে। বিশেষ করে সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের পদে জনবল সংকট অত্যন্ত প্রকট হয়ে উঠেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই বিভাগের পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের জন্য অনুমোদিত ৩৭ হাজার ৯৭৮টি পদের বিপরীতে শূন্য রয়েছে ৪ হাজার ৮৯২টি পদ। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১ হাজার ৫টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৫৫২টি পদই খালি। এই সংকটের কারণে বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমও ধীরগতিতে চলছে। ফলে দ্রুত নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বরিশাল বিভাগের ৬ হাজার ২৪৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৭ লাখ ২৭ হাজার ৪৮৭ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এসব বিদ্যালয় তদারকিতে রয়েছে ৬টি জেলা ও ৪২টি উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা অফিস। সব মিলিয়ে এখানে মোট ৩৮ হাজার ৯৫৩টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৩২ হাজার ৫০৪ জন।

শিক্ষক পদের সংকট সবচেয়ে বেশি। পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের ৩৭ হাজার ৯৭৮টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৩২ হাজার ৬৯ জন, ফলে ৪ হাজার ৮৯২টি পদ শূন্য রয়েছে, যা মোট পদের প্রায় ১২.৯ শতাংশ।

পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষকের ৩০টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ১৮টি পূরণ হয়েছে, বাকি ১২টি পদ শূন্য, অর্থাৎ ৪০ শতাংশ পদ খালি। প্রধান শিক্ষকের ৬ হাজার ২৪১টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২ হাজার ৯৯৯ জন; ফলে ২ হাজার ২২৫টি পদ শূন্য রয়েছে, যা প্রায় ৩৫.৭ শতাংশ। সহকারী শিক্ষকের ৩১ হাজার ৭০৭টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২৯ হাজার ৫২ জন; এখানে ২ হাজার ৬৫৫টি পদ খালি, যা প্রায় ৮.৪ শতাংশ। এর মধ্যে ১ হাজার ১৭ জন সহকারী শিক্ষক বর্তমানে ‘চলতি দায়িত্ব’ হিসেবে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা অফিসগুলোতেও একই চিত্র। ১ হাজার ৫টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৪৫৩ জন; শূন্য রয়েছে ৫৫২টি পদ, যা মোট পদের প্রায় ৫৪.৯ শতাংশ। অফিস সহায়ক ও টেকনিক্যাল সাপোর্ট পদেও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।

উপজেলা ও থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের ২৫১টি পদের মধ্যে ১৩৫টি শূন্য। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের ৬টি পদের মধ্যে ১টি খালি। সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের ১২টির মধ্যে ৪টি এবং সহকারী মনিটরিং অফিসারের ৬টির মধ্যে ৩টি পদ শূন্য রয়েছে। রিসোর্স সেন্টারের সহকারী ইনস্ট্রাক্টরের ৪১টি পদের মধ্যে ৩৯টি খালি থাকায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

প্রশিক্ষণ ও বিশেষায়িত শিক্ষার ক্ষেত্রেও সংকট তীব্র। সাধারণ ইনস্ট্রাক্টরের ৭০টি পদের মধ্যে ৩৪টি শূন্য। বিজ্ঞান ও চারু-কারু ইনস্ট্রাক্টরের প্রতিটিতে ৫টি করে সব পদই খালি। কৃষি ও শারীরিক শিক্ষা ইনস্ট্রাক্টরের ৫টির মধ্যে ৪টি করে পদ শূন্য রয়েছে। কম্পিউটার সায়েন্স ইনস্ট্রাক্টরের ৫টির মধ্যে ৩টি পদ খালি। ফলে প্রায় সব শাখার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

প্রশাসনিক সহায়ক পদগুলোতেও একই অবস্থা। অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিকের ১১৮টি পদের মধ্যে ৮৯টি খালি। অফিস সহায়কের ১১১টির মধ্যে ৯৭টি পদ শূন্য। ক্যাশিয়ারের ৭টি পদই খালি রয়েছে। হিসাব সহকারীর ৪১টির মধ্যে ২৬টি এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের ৪২টির মধ্যে ২২টি পদ শূন্য। ড্রাইভারের ৮টির মধ্যে ৭টি পদ খালি। এছাড়া মালি ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ৬টি করে পদের সবগুলোই শূন্য রয়েছে।

একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই জনবল সংকটের কারণে শিক্ষার মান কমে যাচ্ছে এবং দাপ্তরিক কাজেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। দ্রুত নিয়োগ না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, শূন্যপদের প্রভাব বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বেশি পড়ছে। শিক্ষক সংকটে অনেক বিদ্যালয়ে পাঠদানের মান কমে গেছে এবং প্রশাসনিক কাজেও গতি কমেছে। তিনি দ্রুত এই সংকট নিরসনের দাবি জানান।

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষার বরিশাল বিভাগীয় উপপরিচালক নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, জনবল ঘাটতির কারণে কাজের গতি কমে যায়। শূন্যপদ পূরণের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ সচেতন থাকলেও নিয়োগসংক্রান্ত মামলা থাকায় বর্তমানে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

/এসএন