• ঢাকা
  • বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৬ এএম


উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি ও সংবিধান সংস্কার নিয়ে আপত্তি ফখরুলের

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২ মে ২০২৬ ১১:১৬ পিএম

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, জুলাই সনদের বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপি সম্পৃক্ত থাকলেও কিছু বিষয়ে তারা ভিন্নমত দিয়েছে এবং সে অনুযায়ী নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে স্বাক্ষরও করেছে। তিনি বলেন, এখন এমনভাবে বলা হচ্ছে যেন সব প্রস্তাবই বাস্তবায়ন করতে হবে, কিন্তু উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়ে তারা একমত নন। তার মতে, এসব পরিবর্তন সংসদের মাধ্যমেই সম্পন্ন হওয়া উচিত।

শনিবার (২ মে) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে জিয়া পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বিএনপি সংস্কারের বিরোধী—এমন প্রচারণা বিভ্রান্তিকর। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে প্রথম সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

নতুন বাংলাদেশ গঠনের একটি সুযোগ এসেছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জুলাই সনদ ও সংবিধান নিয়ে মতপার্থক্য থাকাটা স্বাভাবিক। তবে এই বিষয়গুলো রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়।

তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা। তিনি দাবি করেন, ফ্যাসিস্ট আমলে বিপুল পরিমাণ দেনা রেখে যাওয়া হয়েছে এবং সেই অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে নতুনভাবে গড়ে তোলার জন্য জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে এবং মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। ছাত্ররাজনীতিতে মেধাবীদের সম্পৃক্ত করে ইতিবাচক ধারায় পরিচালনা না করলে অতীতের মতো ক্ষতির পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির ইতোমধ্যে অনেক অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন রয়েছে, তাই নতুন করে সংগঠন তৈরির প্রয়োজন নেই। জিয়া পরিষদের নামে নতুন সংগঠন গড়ে তোলার প্রবণতা নিরুৎসাহিত করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন এবং এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

জিয়াউর রহমানকে নিয়ে গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, তার অনুপ্রেরণায় জিয়া পরিষদ ইতোমধ্যে কয়েকটি বই প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত রাখা উচিত।

সরকারে যোগদানের পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির চিত্র দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, “সরকারে আসার পর যেদিকে তাকাই, শুধু অনিয়ম, দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতি দেখতে পাই। সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে এগুলো বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, দেশে এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে যেখানে তদবির ছাড়া কোনো কাজ হয় না। এমনকি উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রেও তদবিরের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।