ছবি: সংগৃহীত
য়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থী না থাকায় ৪৯ জন প্রার্থীকে বেসরকারিভাবে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বুধবার বিকেলে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের মধ্যে বিএনপির ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১২ জন এবং স্বতন্ত্র জোটের একজন প্রার্থী রয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেল ৪টা পর্যন্ত ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থী তাঁদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় এবং প্রতিটি আসনের বিপরীতে একক প্রার্থী থাকায় আইন অনুযায়ী তাঁদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তা মঈন উদ্দীন খান জানান, বৈধ প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার তাঁদের নাম-ঠিকানাসহ গেজেট প্রকাশ করা হবে। গেজেট প্রকাশের পর তা সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হবে এবং এরপরই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের আয়োজন করা হবে।
সংরক্ষিত ৫০টি আসনের জন্য গত ২১ এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে মোট ৫৩ জন প্রার্থী তাঁদের আবেদন জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়, যার মধ্যে জামায়াত জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনিরা শারমিনও ছিলেন। সরকারি চাকরি ছাড়ার পর নির্ধারিত তিন বছর পার না হওয়ায় তাঁর প্রার্থিতা টেকেনি। অন্যদিকে, জোটের বাইরে আরও তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে একক প্রার্থীর পথ প্রশস্ত হয়।
এদিকে, একটি আসন নিয়ে এখনো আইনি জটিলতা ও সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে। জামায়াত জোটের আরেক প্রার্থী এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম নির্ধারিত সময়ের পরে মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাওয়ায় প্রথমে তা গ্রহণ করা হয়নি। পরবর্তীতে তিনি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত তাঁর মনোনয়নপত্র গ্রহণের জন্য ইসিকে নির্দেশ দেন। এই বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, আদালতের রায়ের কপি হাতে পাওয়া গেছে এবং নির্বাচন কমিশন আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করবে।
আদালতের নির্দেশে একজন প্রার্থীর অন্তর্ভুক্তি বা একটি আসন শূন্য থাকার বিষয়ে কমিশন পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানাবে। আগামী ১২ মে এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও ভোটের কোনো প্রয়োজন পড়ছে না। ফলে এবারও কোনো ধরনের ব্যালট যুদ্ধ ছাড়াই সংসদে যুক্ত হচ্ছেন এই ৪৯ জন নারী প্রতিনিধি। গেজেট প্রকাশের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যেই তাঁদের সংসদীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণের পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।