• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১১ এএম


বাংলাদেশে এত বেশি বজ্রপাত কেন হচ্ছে?

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ৯:৪২ পিএম

দেশজুড়ে সাম্প্রতিক বজ্রপাতের ঘটনায় উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েকদিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৪০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে বজ্রাঘাতে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে তিন শতাধিক মানুষ বজ্রপাতে প্রাণ হারান—যা সময়ের সঙ্গে কমার পরিবর্তে বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মৃত্যুর বড় একটি অংশ প্রতিরোধযোগ্য হলেও সচেতনতার অভাব এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না।

বাংলাদেশে মার্চ থেকে মে—এই তিন মাস প্রাক-বর্ষা মৌসুম হিসেবে পরিচিত। এই সময়েই দেশের মোট বজ্রঝড়ের প্রায় ৩৮ শতাংশ ঘটে থাকে। ফলে বজ্রপাতের ঘটনাও এ সময় বেশি দেখা যায়।

ভৌগোলিক কারণেই ঝুঁকি বেশি

আবহাওয়াবিদদের মতে, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান বজ্রপাতের অন্যতম প্রধান কারণ। দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত জলীয়বাষ্পপূর্ণ বাতাস দেশের ভেতরে প্রবেশ করে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে উপরের দিকে উঠে ঠান্ডা হয়। একই সময়ে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস আসে।

এই দুই ধরনের বাতাসের সংঘর্ষে শক্তিশালী বজ্রমেঘ তৈরি হয়, যা বজ্রপাতের ঝুঁকি বাড়ায়। ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল, পাবনা, রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চলে বজ্রপাতের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি।

পরিবেশগত প্রভাবও দায়ী

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, বায়ুদূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনও বজ্রপাত বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখছে। বাতাসে সালফেট কণার পরিমাণ বৃদ্ধি বজ্রমেঘ তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বাষ্পায়নের হার বাড়ায় বজ্রঝড়ের তীব্রতাও বাড়ছে।

সচেতনতাই প্রধান প্রতিরোধ

আবহাওয়াবিদরা মনে করেন, যথাযথ সচেতনতা গড়ে তুলতে পারলে বজ্রপাতে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। বজ্রধ্বনি শোনামাত্রই নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া, খোলা মাঠ বা গাছের নিচে অবস্থান না করা এবং কৃষক ও মৎস্যজীবীদের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি।

তাদের মতে, প্রান্তিক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে পারলে বজ্রপাতে মৃত্যুহার অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বজ্রপাত শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং এটি জননিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।