ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের ফলে দেশটির তেল উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও অর্থনীতি ভেঙে পড়ার দাবি বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে গত ১২ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। লক্ষ্য হিসেবে বলা হচ্ছে, শান্তি আলোচনায় তেহরানকে চাপের মুখে আনা।তবে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করলেও যে অবরোধে ইরান আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে, অনেক বিশেষজ্ঞ সেই মতের সঙ্গে একমত নন।তেহরানের সাঈদ লায়লাজ বলেন, এই অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে কিছু ক্ষতি হতে পারে, তবে ইরানের তুলনায় পারস্য উপসাগরের দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশগুলো বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে।জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, অবরোধের কারণে ইরানের প্রধান রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে তেলের মজুদ দ্রুত পূর্ণ হয়ে যেতে পারে, যা উৎপাদন ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করবে।তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ সংস্থা কেইপলার জানায়, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইতোমধ্যেই ইরানের অপরিশোধিত তেল উৎপাদন দৈনিক প্রায় ২ লাখ ব্যারেল কমেছে এবং এই মাসে তা আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে।তবে মিডল ইস্ট ইকোনমিক সার্ভের জ্যেষ্ঠ সম্পাদক জেমি ইনগ্রাম মনে করেন, দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও টিকে থাকার অভিজ্ঞতা ইরানের রয়েছে, ফলে তারা সহজে বড় কোনো আপস করবে না।অন্যদিকে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ ইরান বিষয়ক পরিচালক আলী ভায়েজ বলেন, অর্থনৈতিক চাপ বাড়লেও দেশটির নেতৃত্ব অতীতেও কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে।বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হওয়ায় এটি এখনো ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার।