• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:১৫ এএম


মার্কিন নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম তরুণী নাবিলা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৪ নভেম্বর ২০২৬ ৬:০১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ইতিহাস গড়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম তরুণী নাবিলা। ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের আইনসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে নতুন এই ইতিহাস তৈরি করেছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রায় ৯৪ শতাংশ ভোট গণনা শেষে তার বিজয়ের ফল ঘোষণা করা হয়।নির্বাচনে জয়ের পর সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে নাবিলা বলেন, ‘আমাদের প্রচার দলের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকরা মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলতে পেরেছেন। শুধু ভোট জেতার আকাঙ্ক্ষা নয়, বরং সহমর্মিতা ও সহানুভূতিকে সামনে রেখেই আমরা প্রচার চালিয়েছি।’ইলিনয়ের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরতলির এই আসনে নির্বাচন ছিল অঙ্গরাজ্যের আইনসভা নির্বাচনের ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই। ইলিনয়ভিত্তিক সংস্থা রিফর্ম ফর ইলিনয়ের নির্বাহী পরিচালক আলিসা কাপলান জানিয়েছেন, দুই প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারে মোট ৬৫ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে।কাপলানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারে নাবিলা অন্তত ৪৭ লাখ ডলার অনুদান পেয়েছেন। এর বড় অংশ এসেছে তার নিজ দল থেকে। অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডার্বি হিলস পেয়েছেন ১৮ লাখ ডলার।নাবিলা ইলিনয় ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং ইলিনয় সিনেট ডেমোক্রেটিক ফান্ড থেকে ৩০ লাখ ডলারের বেশি অনুদান পেয়েছেন। এই তহবিলটি নিয়ন্ত্রণ করেন ইলিনয় সিনেটের প্রেসিডেন্ট ডন হারমন। এ ছাড়া বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পেয়েছেন তিনি।অন্যদিকে নির্বাচনে বিপুল অর্থ ব্যয়ের সমালোচনা করে ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে ‘অসৎ কৌশল’ অবলম্বনের অভিযোগ তুলেছেন ডার্বি হিলস। তার দল ইলিনয় সিনেট রিপাবলিকান ক্যাম্পেইন সর্বশেষ গত আগস্টে তাকে ৩ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছিল।নাবিলার বিরোধিতায় গত মাসে ‘স্ট্রং ইন্ডিপেনডেন্ট লিডারশিপ কমিটি’ নামে একটি রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটিও গঠন করা হয়। চরমপন্থি প্রার্থীদের বিরোধিতা এবং শক্তিশালী ও স্বাধীন নেতৃত্ব নিশ্চিত করাকে নিজেদের লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করে সংগঠনটি। নর্থ ব্যারিংটনের বাসিন্দা ভিন্স ফোগলিয়া কমিটিটি গঠন করেন এবং এতে ৫ লাখ ডলার অনুদান দেন। আলাদাভাবে ফোগলিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরাও ডার্বি হিলসের নির্বাচনী প্রচারে ৫ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছেন।ড্যান ম্যাককনচির পদত্যাগের পর তার আসনে নিয়োগ পেয়েছিলেন ৫০ বছর বয়সি ডার্বি হিলস। এর আগে তিনি সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে কাজ করেছেন। ২০২১ সালে ‘মিসেস ইলিনয় আমেরিকা’ খেতাবও জিতেছিলেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারে জননিরাপত্তা, বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা, কর কমানো এবং সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ডার্বি।নির্বাচনী প্রচারে নাবিলার বয়স ও অভিজ্ঞতাকে ইস্যু করেছিলেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী। প্রচারের শেষ দিকে নাবিলাকে নিজের নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করার জন্য ‘অতিরিক্ত চরমপন্থি’ বলেও মন্তব্য করেন ডার্বি।অন্যদিকে নিজের প্রচারে মুসলিমবিরোধী মনোভাবের সমালোচনা করেন নাবিলা। তিনি বলেন, ‘বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইতে গেলে মানুষের কাছ থেকে বিদ্বেষপূর্ণ, ভীতিকর ও হুমকিমূলক কথা শুনতে হচ্ছে। এই এলাকাতেই আমার বেড়ে ওঠা। অথচ আমাকে প্রমাণ করতে হচ্ছে যে আমি এই দেশেই জন্মগ্রহণ করেছি।’নাবিলা আরও জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা তার প্রধান অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে। এ ছাড়া ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর আরও নজরদারি বাড়ানোর বিষয়ে দুই প্রার্থীই একমত ছিলেন।নির্বাচনে জয়ী হয়ে নাবিলা শুধু নিজের রাজনৈতিক অবস্থানই শক্তিশালী করেননি, বরং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম নারীদের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।

সূত্র: শিকাগো সান টাইমস

/বিএসএস