• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম


মুসলিমরা এখন আর নেতা বানাবে না, নিজেরাই নেতৃত্ব দেবে: ওয়াইসি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ৯:৩৫ পিএম

ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে আর অন্য রাজনৈতিক নেতাদের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের নেতৃত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলো মুসলিমদের ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করলেও সম্প্রদায়টির নিজস্ব নেতৃত্ব বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ দেয়নি।রোববার উত্তরপ্রদেশের রামপুরে এক জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় সমাজবাদী পার্টি (এসপি) ও দলটির প্রধান অখিলেশ যাদবের সমালোচনা করেন ওয়াইসি। ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে দেওয়া বক্তব্যে তিনি মুসলিম তরুণদের রাজনৈতিক নেতৃত্বে এগিয়ে আসার ওপর গুরুত্ব দেন।বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের সূত্র অনুযায়ী, ওয়াইসি বলেন, “আমরা আর কোনো নেহরু, গান্ধী বা যাদবকে আমাদের নেতা বানাব না। এই তরুণ ছেলে-মেয়েরাই আমাদের সামনের সারিতে নেতৃত্ব দেবে।”তাঁর দাবি, মুসলিম তরুণ-তরুণীদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেওয়ার মতো মেধা ও সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু রাজনীতিতে প্রবেশ এবং নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য তাঁরা প্রয়োজনীয় প্ল্যাটফর্ম ও সুযোগ পাচ্ছেন না।জনসভায় উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে ওয়াইসি বলেন, “আপনাদের মধ্যেও মেধা রয়েছে, কিন্তু আপনাদের কোনো সুযোগ বা প্ল্যাটফর্ম দেওয়া হচ্ছে না।”এআইএমআইএম প্রধান জানান, তাঁর দল প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের তরুণদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে কাজ করছে। এর মাধ্যমে তাঁরা যেন দেশের নেতৃত্ব দিতে পারেন এবং শোষিত মানুষের জন্য ন্যায়বিচার আদায়ে ভূমিকা রাখতে পারেন, সেটিই দলের লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।সমাজবাদী পার্টির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নসমাজবাদী পার্টির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি দলটির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ওয়াইসি। তাঁর অভিযোগ, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মুসলিমরা দলটিকে সমর্থন দিয়ে এলেও বিনিময়ে শিক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত সুযোগ পাননি।এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আজমগড় জেলার উদাহরণ টেনে তিনি প্রশ্ন করেন, শিবলি কলেজের মতো ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এখনো কেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা দেওয়া হয়নি।এর বিপরীতে যাদব পরিবারের নিজস্ব নির্বাচনী এলাকা সাফাইয়ে গড়ে ওঠা শিক্ষা ও ক্রীড়া অবকাঠামোর প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। আজমগড়ে সমাজবাদী পার্টির দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে ওয়াইসি প্রশ্ন করেন, “আপনারা আজমগড়কে আসলে কী দিয়েছেন?”তাঁর অভিযোগ, মুসলিম ভোটাররা বারবার সমাজবাদী পার্টিকে সমর্থন করলেও তাঁদের শিক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।নিজেদের অধিকার ও প্রতিনিধিত্বের দাবিওয়াইসি বলেন, মুসলিমদের পুরোনো ও প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক নেতাদের সমর্থক হয়ে থাকার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নিজেদের ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি জানানো উচিত।তিনি বলেন, “এখন এক নতুন চিন্তাভাবনার জন্ম হয়েছে—মুসলিমরা আর অন্যের জন্য নেতা বানানো বন্ধ করে নিজেরাই নেতা হতে চায়। আমরা আর অন্যের সভার কার্পেট পাততে চাই না; আমরা নিজেদের প্রাপ্য অধিকার ও ভাগ নিয়ে কথা বলতে চাই।”তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তরুণ মুসলিমদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ শুধু বড় নেতাদের স্লোগান দেওয়া কিংবা নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। বরং তাঁদের নিজেদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।সংগঠন শক্তিশালী করার আহ্বান২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে রাজ্যে এআইএমআইএমের সাংগঠনিক ভিত্তি সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন দলটির প্রধান। তিনি কর্মী-সমর্থকদের তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন শক্তিশালী করা এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে দলের সমর্থন বাড়ানোর আহ্বান জানান।এ ছাড়া রামপুরের অর্থনৈতিক সংকট ও শিক্ষাগত চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গ তুলে সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়ের জন্য সমান অধিকার এবং যথাযথ রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানান ওয়াইসি।তাঁর বক্তব্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক স্বনির্ভরতা, তরুণদের নেতৃত্বে অংশগ্রহণ এবং শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। উত্তরপ্রদেশের আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব ইস্যুতে এআইএমআইএমের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

/বিএসএস