ককরোচদের পর মোদিবিরোধী আন্দোলনে এবার ‘মাছি জনতা পার্টি’ভারতে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক উদ্যোগ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) পর এবার আলোচনায় এসেছে নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘মাছি জনতা পার্টি’ (এমজেপি)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামকেন্দ্রিক এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তাদের আত্মপ্রকাশ ঘিরে মোদিবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা, তৈরি হয়েছে আলোচনা ও কৌতূহল।ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেছে এই নতুন রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ। প্রধান বিচারপতির ‘মাছি মারতে হাতুড়ি ব্যবহার করা যায় না’—এমন মন্তব্য থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে গড়ে উঠেছে মাছি জনতা পার্টি (Makhi Janta Party—MJP)।আত্মপ্রকাশের মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দলটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ৪০ লাখের বেশি ভিউ এবং ৩ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি অনুসারী যুক্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।ইনস্টাগ্রামে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে মাছি জনতা পার্টি বলেছে, তারা আরেকটি ব্যঙ্গাত্মক গণআন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) সঙ্গে যোগাযোগ করছে। দুই পক্ষ যৌথভাবে কর্মসূচি পালন করতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদী আন্দোলনকারী নেহা বোরাকে সমর্থন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে এমজেপি। পাশাপাশি ককরোচ জনতা পার্টির দুই শীর্ষ নেতাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার ঘটনায়ও কড়া সমালোচনা করেছে সংগঠনটি। এ বিষয়ে পৃথক দুটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।মাছি জনতা পার্টি কী?মাছি জনতা পার্টি বা এমজেপি মূলত ইনস্টাগ্রামভিত্তিক একটি ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম। ডিজিটাল রেকর্ড অনুযায়ী, অ্যাকাউন্টটি ২০২১ সালের জুনে তৈরি হয়েছিল। তবে অন্তত আটবার নাম পরিবর্তনের পর বর্তমানে ‘makhijantaparty.ig’ ইউজারনেমে সক্রিয় রয়েছে এটি।আর্যন (Aaryan) নামের এক শিক্ষার্থী নিজেকে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। সম্প্রতি সংগঠনের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন মুখপাত্র নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে।সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ থেকে এমজেপির জন্মগত ৯ অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টির ১০ অক্টোবরের প্রস্তাবিত ‘দিল্লি স্তব্ধ’ কর্মসূচির আগে রাজধানীতে ইন্টারনেট, মেট্রো ও ট্রেন চলাচলে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা জারির বিরুদ্ধে করা একটি পিটিশনের শুনানি হয় ভারতের সুপ্রিম কোর্টে।শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ এ বিষয়ে কঠোর পর্যবেক্ষণ দেন। আদালত বলেন, নিরাপত্তার প্রয়োজনে গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে, কিন্তু পুরো ব্যবস্থাকে অচল করে দেওয়া যায় না।এ প্রসঙ্গেই প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, ‘একটা মাছি মারতে তো আর হাতুড়ি ব্যবহার করা চলে না।’প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্য থেকেই মাছি জনতা পার্টির নাম ও ব্যঙ্গাত্মক ভাবনার অনুপ্রেরণা এসেছে বলে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর এখন ককরোচ জনতা পার্টির সঙ্গে তাদের সম্ভাব্য যৌথ কর্মসূচি নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
/বিএসএস