• ঢাকা
  • শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৩ এএম


আজারবাইজানে স্কুলে হিজাব নি/ষিদ্ধ, প্র/তি/বাদে উ/ত্তাল দেশ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ১১:০৮ পিএম

আজারবাইজানে সরকারি স্কুলে নতুন পোশাকবিধি কার্যকর হওয়ার পর হিজাব পরা ছাত্রীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে রাজধানী বাকুসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে সোমবার ৩৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ। হিজাব নিয়ে এই বিতর্কে তুরস্কের সঙ্গেও দেশটির কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।স্কুলের ফটকে দাঁড়িয়ে এক কিশোরীর প্রশ্ন, ‘কেন আমি আমার ধর্ম ত্যাগ করব?’ হিজাব পরার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে না পারার প্রতিবাদে করা তার এই প্রশ্নের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন পোশাকবিধি কার্যকর হওয়ার পর এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে দেশটির অনেক ছাত্রী।গত সোমবার থেকে সরকারি স্কুলগুলোতে নতুন পোশাকবিধি কার্যকর করা হয়। এরপর হিজাব পরা ছাত্রীদের স্কুলে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা দেখা যায়, ‘হিজাব কারো শিক্ষা অর্জনে বাধা নয়।’বাকুসহ দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় এ নিয়ে বিক্ষোভ হয়। সোমবার বিক্ষোভের ঘটনায় ৩৭ জনকে আটক করে পুলিশ। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, আটক ব্যক্তিরা নতুন নিয়ম বাস্তবায়নে বাধা দিয়েছেন এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করেছেন।নতুন পোশাকবিধিতে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পোশাক নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। তবে বিধিতে সরাসরি হিজাবের নাম উল্লেখ করা হয়নি। পরে শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।এদিকে, হিজাবের কারণে স্কুলে যেতে না পারা শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে পড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন এক অ্যাক্টিভিস্ট। তার বন্ধুদের দাবি, এখন তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে আটক করা হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। তবে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।বিক্ষোভ শুরুর পর দেশটির কিছু ব্যবহারকারী ইনস্টাগ্রাম ও টিকটক ব্যবহারে সমস্যার অভিযোগও করেছেন।সরকারের যুক্তি, শিশুদের ধর্মীয় পোশাক পরার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে পরিবারের প্রভাব থাকতে পারে। আজারবাইজানের সংসদ সদস্য নিগার আরপাদরাইয়ের মতে, ধর্ম বেছে নেওয়ার বিষয়ে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার প্রাপ্তবয়স্কদের রয়েছে।তবে বিক্ষোভকারীদের কাছে বিষয়টি শুধু ধর্মীয় পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে শিক্ষার অধিকার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশের সুযোগের প্রশ্নও জড়িয়ে পড়েছে। সাংবিধানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ দেশ আজারবাইজানে প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের সরকার দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করে আসছে।তুরস্কের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনআজারবাইজানের স্কুলে হিজাব নিয়ে বিতর্ক এবার তুরস্কের সঙ্গেও মতবিরোধ তৈরি করেছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রধান উপদেষ্টা ওকতাই সারাল হিজাববিষয়ক বিধিনিষেধকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন তুরস্কের কয়েকজন আইনপ্রণেতাও।এ ছাড়া আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুলে আজারবাইজানের কূটনৈতিক মিশনের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটির অভ্যন্তরীণ পোশাকবিধি নিয়ে বিতর্ক আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ছড়িয়ে পড়েছে।এই বিরোধের পেছনে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক হিসাবও থাকতে পারে বলে আলোচনা চলছে। তুরস্কের কিছু বিক্ষোভকারী হিজাবসংক্রান্ত বিধিনিষেধের সঙ্গে আজারবাইজানের ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের যোগসূত্র টেনেছেন।ইসরায়েল আজারবাইজানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে এবং দেশটি থেকে তেল আমদানি করে। অন্যদিকে, গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আজারবাইজান উভয় দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: বিবিসি

/বিএসএস