• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪২ এএম


স্বামী-স্ত্রীর বিরোধ গড়াল স্কুলে, অফিসকক্ষে নারী শিক্ষিকার সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের মা’রামা’রির ভিডিও ভাই’রাল

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ১০:২৭ পিএম

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষিকার মধ্যে ধস্তাধস্তি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাটি ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। সেখানে প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন ও সহকারী শিক্ষিকা আসমা বেগমের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, মারামারিতে জড়িত দুজন সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ১০ থেকে ১২ দিন আগে বিদ্যালয়ের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

এলাকাবাসীর তথ্য অনুযায়ী, আফজাল হোসেন ও আসমা বেগমের বিয়ে হয় ২০০৪ সালে। তাঁদের সংসারে একটি মেয়ে রয়েছে। মেয়েটি উচ্চমাধ্যমিকের পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রায় ১৪ বছর ধরে স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকছেন। তাঁদের মধ্যে বিরোধ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে। তবে এখনো তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। তাঁরা দুজনই ২০১১ সালের দিকে ওই বিদ্যালয়ে যোগ দেন।

প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন বলেন, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। কখনো কখনো সেই বিরোধ বিদ্যালয় পর্যন্ত গড়ায়। ১০ থেকে ১২ দিন আগে পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই বিদ্যালয়ে তাঁদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।

আফজাল হোসেন আরও বলেন, সহকর্মী শিক্ষকদের দিয়ে তিনি ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করান। এর আগেও দুই থেকে তিনবার বিদ্যালয়ে তাঁদের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ১০ থেকে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে দূরত্ব রয়েছে। তবে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। পারিবারিক বিরোধের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক।

বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো ঠিক হয়নি বলে স্বীকার করেছেন আফজাল হোসেন। তবে এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষিকা আসমা বেগমের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

ফুলবাড়িয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি ১০ থেকে ১২ দিন আগের। তবে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি তাঁদের নজরে আসে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে বলেও তিনি জানতে পেরেছেন।

মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন আরও বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বুধবার (১৪ অক্টোবর) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হবে।

/এসএন