• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৬ এএম


৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১২:২৯ এএম

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমামমসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলার পাশাপাশি বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি। তাঁর লাগানো গাছে বদলে গেছে এলাকার সড়কের দৃশ্যপট। বিশেষ করে বাউল সড়কের দুই পাশে সারি সারি তালগাছ এখন স্থানীয়দের কাছে সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। এ কাজ এগিয়ে নিতে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় আট লাখ টাকা ব্যয়ে ভূঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন তিনি। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগৃহীত বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন তিনি।তালগাছে বদলে গেছে সড়কের সৌন্দর্যস্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল হলে স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে সময় কাটাতে আসেন। দূরদূরান্ত থেকেও অনেকে সড়কটির সৌন্দর্য দেখতে আসেন।তাঁরা জানান, রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের উদ্যোগ দেখে স্থানীয় অনেকেই নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর এই প্রচেষ্টা এলাকার মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণের আগ্রহও বাড়িয়েছে।তিন দশকে লাগিয়েছেন ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছরেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’তিনি বলেন, ‘সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি, তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসিনি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছি।’বজ্রপাতের ঝুঁকি বিবেচনায় তালগাছ রোপণতালগাছ লাগানোর বিষয়ে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তিনি তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এ বিষয়ে বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন তিনি।নিজের অর্থ, শ্রম ও দীর্ঘদিনের নিষ্ঠার মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া বাবুলের উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যক্তিগত অবদানের একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তাঁর লাগানো গাছ একদিকে যেমন সড়কের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষকে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করছে।

/বিএসএস