• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৭ পিএম


ওসমান হাদি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক: আব্দুল্লাহ আল জাবের

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ৬:৪৯ পিএম

ওসমান হাদি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক: আব্দুল্লাহ আল জাবেরশহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের। তিনি বলেছেন, এখনো শত শত মানুষ শহীদ ওসমান হাদির কবরের সামনে গিয়ে তাঁর জন্য দোয়া করেন। তাঁর শাহাদাতের মধ্য দিয়ে অনেকে মনে করেছেন, কথা বলার মতো আর কেউ নেই।সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে নীলফামারী শহরের চৌরঙ্গী মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বড় বাজারে পৌঁছান ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। পরে সেখানে আয়োজিত ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচির সমাবেশে বক্তব্য দেন আব্দুল্লাহ আল জাবের।শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে কেন হত্যা করা হলো, এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, গত ৫৫ বছর ধরে স্বাধীনতার কথা বলা হলেও কার্যত দিল্লির প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালিত হয়েছে। তাঁর দাবি, সেই আধিপত্য থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা থেকেই বাংলাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল।আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সামনের সারিতে থাকা ব্যক্তিদের গণমাধ্যমের মাধ্যমে চরিত্রহনন করা হচ্ছে। শহীদ ওসমান হাদি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক ছিলেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।বিচারব্যবস্থার সমালোচনা করে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক বলেন, যেখানে মানহানির মামলা হওয়ার কথা, সেখানে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, বিচারব্যবস্থার এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে কোনো ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে না পড়লে অনেক ক্ষেত্রে বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে না।সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রের কোনো ব্যবস্থাই ঠিক করতে পারেনি। দ্রব্যমূল্য নিয়ে কথা বললে কখনো যুদ্ধের প্রসঙ্গ সামনে আনা হচ্ছে, আবার চালের দাম নিয়ে প্রশ্ন তুললে সারের দাম নিয়ে কথা বলা হচ্ছে। এভাবে জনগণকে তাঁদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, “আমরা এখানে এসেছি আমাদের অধিকারের কথা বলতে। একটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের স্বপ্নের বীজ বপন করতে এসেছি।”শহীদ ওসমান হাদির আদর্শ তুলে ধরে তিনি বলেন, আধিপত্যের সঙ্গে আপস করে প্রধানমন্ত্রী হওয়াটা জয় নয়; বরং আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করতে করতে শহীদ হওয়াটাই জীবনের সবচেয়ে বড় লড়াই। তিনি আরও বলেন, “আমরা তো সেই শহীদ ওসমান হাদির সহযোদ্ধা, জান দেব, তবু জুলাই দেব না।”জুলাই সনদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক বলেন, জুলাই সনদ কি শুধু শেখ হাসিনাকে বিদায় করে তারেক রহমানকে ক্ষমতায় আনার জন্য হয়েছিল, নাকি বাংলাদেশকে একটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল?তাঁর ভাষ্য, গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের রায় উপেক্ষা করা এবং শাপলা ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার না করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি করতে হবে।তিনি এমন একটি বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন, যেখানে ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী কিংবা কোনো রাজনৈতিক দলের আশ্বাসের ওপর নির্ভর করতে হবে না। কোনো নাগরিক অন্যায়ভাবে হয়রানি বা হত্যার শিকার হলে রাষ্ট্রকেই তাঁর বিচার নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, খুনিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াবে আর ন্যায়বিচারের দাবিতে সাধারণ মানুষকে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে হবে—এমন পরিস্থিতি চলতে পারে না।বিএনপির রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ তারেক রহমানের পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কিংবা তাঁর মাতা বেগম খালেদা জিয়াকে শুধু পারিবারিক পরিচয়ের কারণে ভালোবাসে না। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে তাঁদের অবস্থানের কারণেই মানুষ তাঁদের ভালোবাসে বলে মন্তব্য করেন তিনি।দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরার সুযোগ পাওয়া ব্যক্তিদের প্রসঙ্গ টেনে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, তাঁদের অনেকেই এর আগে অনলাইনে মাঝেমধ্যে কথা বলার সুযোগও পেতেন না। তাঁর দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।সেই জুলাইকে অবজ্ঞা না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ সরকারকে পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় এনেছে।নাগরিক নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, যারা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, জনগণ তাদের পাশে থাকবে। অন্যদিকে, যারা জুলুম, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে মানুষের অধিকার হরণ করবে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান, যেখানে রিকশাচালক, ভ্যানচালক, ফল বিক্রেতা, কৃষক ও শ্রমিকেরা শুধু নাগরিক পরিচয়ের ভিত্তিতেই তাঁদের প্রাপ্য সুবিধা পাবেন। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে কেউ বিশেষ সুবিধা পাবেন, আর অন্যরা বঞ্চিত হবেন—এমন বৈষম্য থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সমাবেশের শেষ পর্যায়ে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। দাবিগুলো হলো—শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার, গণভোটের গণরায়ের ভিত্তিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, পিলখানা ও শাপলা হত্যাকাণ্ডের বিচার।

সূত্র: টাইমস টুডে

/বিএসএস