শিক্ষকতা কেবল একটি পেশা বা জীবিকা নয়, এটি মানুষ গড়ার এক মহান ব্রত। একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনেন, তাদের জ্ঞান ও মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করেন এবং বিনির্মাণ করেন দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ। তবে অর্থনৈতিক বাস্তবতাসহ নানা কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহান এ পেশা আগের মতো মেধাবীদের আকৃষ্ট করতে পারছে না।সামাজিক অবক্ষয়, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাসহ নানা অজুহাতে প্রায়ই অপমান-অপদস্থ হতে হয় শিক্ষকদের। ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়েও জোর করে শিক্ষকদের পদত্যাগে বাধ্য করানোসহ শিক্ষাঙ্গনে ঘটে গেছে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। এমন বাস্তবতার মধ্যেই দেশে উদযাপিত হচ্ছে বিশ্ব শিক্ষক দিবস।শিক্ষার্থীরা বলেন, যারা নিজেদের বিলিয়ে দিয়ে অন্যের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলেন, বেশিরভাগ সময় তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ তেমন উজ্জ্বল থাকে না। একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘আসলে একজন শিক্ষক একটা জাতির দর্পণ। কিছু শিক্ষক থাকেন, যারা মা-বাবার দায়িত্ব পালন করেন।’শিক্ষকদের অবদান ও মর্যাদাকে স্বীকৃতি জানাতে আজ ৫ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিক্ষক দিবস। বাংলাদেশসহ বিশ্বের শতাধিক দেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।১৯৯৪ সাল থেকে ইউনেস্কোর উদ্যোগে প্রতিবছর ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়ে আসছে। শিক্ষকদের অধিকার, দায়িত্ব ও কর্মপরিবেশ নিয়ে ১৯৬৬ সালে ইউনেস্কো ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার যৌথ সুপারিশ গ্রহণের ৬০ বছর পূর্ণ হচ্ছে এ বছর।এবারের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য, ‘শিক্ষকদের পাশে: পেশার সুরক্ষায় ৬০ বছর, মর্যাদা এগিয়ে নেওয়া এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গড়া’।১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে শিক্ষকদের মর্যাদা নিয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ আন্তঃসরকারি সম্মেলনে ইউনেস্কো ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা যৌথভাবে শিক্ষকদের অধিকার ও কর্মপরিবেশ নিয়ে সুপারিশ গ্রহণ করে। পরে ১৯৯৪ সালে দিনটিকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।বাংলাদেশেও দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। জাতি গঠনে শিক্ষকদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর দেশের প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের ১০১ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেবে সরকার।সম্মাননা হিসেবে প্রত্যেক শিক্ষককে ২ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র দেওয়া হবে।শিক্ষকদের অবদান, মর্যাদা, অধিকার ও পেশাগত উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরতেই প্রতিবছর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়।
/বিএসএস