রাতের আমল হিসেবে সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। হজরত আবু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রাতে সুরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত পড়বে, তার জন্য তা যথেষ্ট হয়ে যাবে।’ (সহিহ বুখারি: ৫০০৯)হাদিসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, রাতের আমল হিসেবে এবং বিভিন্ন অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করা যথেষ্ট।হজরত নুমান ইবনে বশির (রা.) থেকে বর্ণিত, নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা আসমান-জমিন সৃষ্টির দুই হাজার বছর আগে একটি কিতাব লিখেছেন। সে কিতাব থেকে দুটি আয়াত নাজিল করে তিনি সুরা বাকারার সমাপ্তি করেছেন। যে ঘরে তিন রাত ওই দুটি আয়াত তেলাওয়াত করা হয়, শয়তান ওই ঘরের কাছে আসতে পারে না।’ (সুনানে তিরমিজি: ২৮৮২)সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াতের বাংলা উচ্চারণআয়াত ২৮৫:আমানার রাসুলু বিমা উংঝিলা ইলাইহি মির রাব্বিহি ওয়াল মু’মিনুন। কুল্লুন আমানা বিল্লাহি ওয়া মালা-ইকাতিহি ওয়া কুতুবিহি ওয়া রুসুলিহ। লা নুফাররিকু বাইনা আহাদিম মির রুসুলিহ। ওয়া কালু সামি’না ওয়া আত্বা’না গুফরানাকা রাব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাসির।আয়াত ২৮৬:লা ইউকাল্লিফুল্লাহু নাফসান ইল্লা উসআহা। লাহা মা কাসাবাত ওয়া আলাইহা মাকতাসাবাত। রাব্বানা লা তুআখিজনা ইন-নাসীনা আও আখত্ব’না। রাব্বানা ওয়ালা তাহমিল আলাইনা ইসরান কামা হামালতাহু আলাল্লাজীনা মিং কাবলিনা। রাব্বানা ওয়ালা তুহাম্মিলনা মা লা ত্বাকাতালানা বিহ। ওয়া’ফু আন্না ওয়াগফিরলানা ওয়ারহামনা। আংতা মাওলানা ফাংসুরনা আলাল কাওমিল কাফিরিন।বাংলা অর্থরাসুল তার রবের পক্ষ থেকে তার প্রতি যা নাজিল করা হয়েছে, তার ওপর ঈমান এনেছেন এবং মুমিনরাও। প্রত্যেকে ঈমান এনেছে আল্লাহর ওপর, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ ও তাঁর রাসুলগণের ওপর। আমরা তাঁর রাসুলদের মধ্যে কোনো তারতম্য করি না। তারা বলে, ‘আমরা শুনলাম এবং মানলাম। হে আমাদের রব! আমরা আপনার কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল।’আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। সে যা ভালো অর্জন করেছে, তার সওয়াব তারই এবং যা মন্দ করেছে, তার শাস্তিও তারই ওপর। হে আমাদের রব! আমরা যদি ভুলে যাই অথবা ভুল করি, তাহলে আপনি আমাদের পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব! আমাদের ওপর এমন বোঝা চাপিয়ে দেবেন না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিলেন। হে আমাদের রব! আপনি আমাদের এমন কিছু বহন করাবেন না, যার সামর্থ্য আমাদের নেই। আমাদের মার্জনা করুন, আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের ওপর দয়া করুন। আপনিই আমাদের অভিভাবক। অতএব কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন।
/বিএসএস