• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৯ এএম


জাতিসংঘে আজ প্রথমবার ভাষণ দেবেন তারেক রহমান, গুরুত্ব পাবে রোহিঙ্গা-জলবায়ু

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৩২ পিএম

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে আজ বৃহস্পতিবার বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্ক সময় বিকেল ৫টার দিকে, বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ৩টার দিকে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। সাধারণ পরিষদের বিকেলের অধিবেশনে ১৮ জন বক্তার মধ্যে তিনি ১১তম বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন। তাঁর ভাষণের জন্য ১৫ মিনিট সময় নির্ধারিত রয়েছে।

এই ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হবেন তারেক রহমান। এর আগে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন। পরে ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন তাঁর মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

প্রধানমন্ত্রী বাংলায় দেওয়া ভাষণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন। তাঁর বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তন, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মানবিক বিষয় এবং রোহিঙ্গা সংকট গুরুত্ব পাবে। এর পাশাপাশি গণতান্ত্রিক রূপান্তর, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায্য ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ও গুরুত্ব পাওয়ার কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। বিশ্ব নেতাদের সামনে এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরা হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, ভাষণে বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক রূপান্তর, উন্নয়নের অগ্রাধিকার, বিশ্ব শান্তি এবং আন্তর্জাতিক সংকটের টেকসই সমাধানের বিষয় উঠে আসবে। দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, জলবায়ু মোকাবিলা ও জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়ও এতে গুরুত্ব পাবে। রোহিঙ্গা সংকটকেও সফরের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের জন্য বাড়তি গুরুত্ব রয়েছে। বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

ভাষণের আগে আজ জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অস্তিত্বের সংকট মোকাবিলায় একটি উচ্চপর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এ ধরনের জলবায়ুবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এরই মধ্যে তিনি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।

এরপর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন তিনি।

এ ছাড়া প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু কমাতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ধাত্রীবিদ্যার অন্তর্ভুক্তি বিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। দিনের কর্মসূচিতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গে বৈঠকও রয়েছে।

সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পর নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে তাঁর সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। গত ২১ সেপ্টেম্বর ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর থেকে তিনি একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি এবং মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গে বৈঠকও রয়েছে।

তারেক রহমানের এই ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সঙ্গে তাঁর পরিবারের চার দশকেরও বেশি সময়ের সম্পৃক্ততায় নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। তাঁর বাবা জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে এবং মা খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালে প্রথমবার সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দিয়েছিলেন।

/এএসএফ