গাজী নজরুলের শ্বশুর এস এম মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘মরিয়ম বলতো, আমি বাইরে মুখ দেখাব কীভাবে। সে আমার মামা, আমার এত বড় ক্ষতি করবে আমি বুঝতে পারিনি। আমাকে মাফ করে দেন, আমি বাপের থেকে তাকে বেশি বিশ্বাস করতাম। বিশ্বাস করে আজকে আমি ওই পরিণতি ভোগ করতেছি।’
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল মর্গে মেয়ের মরদেহের জন্য অপেক্ষা করছিলেন এস এম মাসুম বিল্লাহ ও তার স্ত্রী। সদ্য মেয়েকে হারানোর শোকে কখনো কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন বাবা, আবার কখনো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে শান্তভাবে কথা বলছিলেন।
মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘আমি তো চাই সঠিক তদন্ত, আমি যেন ন্যায় বিচারটা পাই। প্রকৃত দোষী যেন শাস্তি পায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘মেয়ে এই সব বলতো আর আমার পা জড়ায় কানতো। ওবায়দুলের কথা বলতো। ওরে খুব বিশ্বাস করে আজকে ওর এই পরিণতি। ওই ঘটনা না ঘটলে ওরে এমপি হোস্টেলে আইসা থাকা লাগে না, তাহলে এই ঘটনাও ঘটতো না।’
বাবার খালুর সঙ্গে কীভাবে তার মেয়ে সম্পর্কে জড়াল—এমন প্রশ্নের জবাবে মাসুম বলেন, ‘আমরা প্রথমে বুঝতে পারিনি। অনেক পরে জানতে পারছি। কিন্তু ওর মামার জন্য এভাবে সব শেষ হয়ে গেল।’
ন্যাম ভবনের ওই ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ মরিয়মের হাতে লেখা চিরকুট বলে যে কাগজগুলো উদ্ধারের কথা জানিয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে মাসুম বলেন, ‘এগুলো ওর লেখা কি না, সেটা আমি বলতে পারছি না। আমি ওর লেখা চিনি না।’
এর আগে রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর ওই রাতেই সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
রাতেই আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
শেরেবাংলা নগর থানার একাধিক কর্মকর্তা জানান, এই মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে।
/এসএন