• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩০ এএম


জুমার দিনে সূরা কাহফ পড়ার ফজিলত ও উত্তম সময়

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৪০ এএম

ইসলামে জুমার দিনকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন এবং সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। এই পবিত্র দিনে বিশেষ কিছু আমলের নির্দেশ ও ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ আমল হলো সূরা আল-কাহফ তিলাওয়াত করা। পবিত্র কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে জুমার দিনে এই সূরা পাঠের বিশেষ আত্মিক ফজিলত রয়েছে।দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ে নূর লাভজুমার দিনে সূরা কাহফ পাঠের অন্যতম বর্ণিত ফজিলত হলো পাঠকারীর জন্য নূর বা আলো সৃষ্টি হওয়া। হযরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা আল-কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় পর্যন্ত নূর উজ্জ্বল করা হবে।” (সুনানে বায়হাকি, হাদিস: ৫৭৯২)অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, এই নূর তিলাওয়াতকারীর পায়ের নিচ থেকে আসমান পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। এর মাধ্যমে কেয়ামতের কঠিন অন্ধকারে পথ দেখানোর বিষয়টিও বর্ণিত হয়েছে।দাজ্জালের ফিতনা থেকে সুরক্ষাআখেরী জামানার সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ ফিতনাগুলোর একটি হলো দাজ্জালের ফিতনা।

এ ফিতনা থেকে বাঁচতে রাসূলুল্লাহ (সা.) সূরা কাহফের আয়াত মুখস্থ করার ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছেন।সহিহ মুসলিমের হাদিসে এসেছে, “যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮০৯)তিলাওয়াতে সাকিনাহ বা প্রশান্তিকোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ প্রশান্তি বা সাকিনাহ অবতীর্ণ হওয়ার ঘটনাও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। সহিহ বুখারির একটি হাদিসে এসেছে, এক সাহাবি রাতে সূরা কাহফ তিলাওয়াত করছিলেন। এ সময় এক খণ্ড মেঘ তাকে ছায়া দিতে থাকে এবং তার ঘোড়া চমকে ওঠে।রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে ঘটনাটি জানানো হলে তিনি বলেন, সেটি ছিল সাকিনাহ বা প্রশান্তি, যা কোরআন তিলাওয়াতের কারণে অবতীর্ণ হয়েছিল। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০১১)কখন সূরা কাহফ তিলাওয়াত করবেনজুমার রাত শুরু হয় বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর এবং জুমার দিন শেষ হয় শুক্রবার সূর্যাস্তের মাধ্যমে। তাই বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকে শুক্রবার সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত যেকোনো সময়ে সূরা কাহফ তিলাওয়াত করা যায়।তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত জুমার দিনের এই ফজিলতপূর্ণ আমলটি গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা। পাশাপাশি সূরা কাহফের শিক্ষা অনুসরণ এবং দাজ্জালের ফিতনাসহ সব ধরনের অন্ধকার ও বিভ্রান্তি থেকে ঈমান রক্ষার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা।

/বিএসএস