• ঢাকা
  • বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম


ন্যূনতম প্রমাণ ছাড়া মৃ’ত্যুদ’ণ্ডের রায় দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ: হাইকোর্ট

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪:০৩ পিএম

ফেনীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারিক আদালতের বিচারকের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, ন্যূনতম সাক্ষ্য-প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া বিচার-বুদ্ধিহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত ছিল।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে এসব পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে হাইকোর্ট বলেন, শামীম, রুহুল আমিন, মাকসুদ কাউন্সিলর ও আফসারউদ্দীনের বিরুদ্ধে ‘ন্যূনতম কোনো প্রমাণ’ পাওয়া যায়নি। এরপরও তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে ওই আসামিদের প্রায় সাত বছর কনডেম সেলে থাকতে হয়েছে। একই সঙ্গে এই ঘটনায় তাদের পরিবারগুলোর ওপরও ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়েছে বলে উল্লেখ করেছেন আদালত।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, একটি সভ্য সমাজে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন সাজা প্রত্যাশিত নয়। ট্রাইব্যুনালের বিচারকের মধ্যেও সংবেদনশীলতার অভাব দেখা গেছে। দণ্ডবিধি ও সাজা প্রদানের বিধিমালার মৌলিক বিষয়গুলো যথাযথভাবে না শেখা পর্যন্ত ওই বিচারককে দায়রা আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন থেকে দূরে রাখাই শ্রেয় বলেও রায়ে কঠোর পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

তবে রায়ে হাইকোর্ট উল্লেখ করেছেন, আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ পরস্পরকে সমর্থন করেছে। এসব সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়েছে।

রায়ে বলা হয়, নুসরাতকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার জন্য অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার নির্দেশ বাস্তবায়নে শাহাদাত হোসেন শামীম ও নুরউদ্দিন মূল সহযোগী হিসেবে কাজ করেন।

এ ছাড়া দণ্ডিত আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি সত্য ও স্বেচ্ছাপ্রণোদিত ছিল বলেও রায়ে উল্লেখ করেছে হাইকোর্ট। আদালত বলেন, রিমান্ডে আসামিদের নির্যাতন করা হয়েছিল—মামলার নথিতে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল বলেই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অবিশ্বাস্য হয়ে যেতে পারে না।

গত ২৪ আগস্ট নুসরাত হত্যা মামলায় মূল হোতা অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা ও মাদরাসার শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন শামীমের বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১০ আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি বহাল রাখার মতো পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ না থাকায় তাদের খালাস দেওয়া হয়।

এ ছাড়া আরও চার আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারা হলেন—মাদ্রাসাছাত্র নুরউদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ এবং উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন।

/এসএন