চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কেন্দ্রীয় মসজিদে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে সৃষ্টি হয়েছে এক ব্যতিক্রমী মানবিক দৃষ্টান্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো এমন একটি ঘটনা ঘটল, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে পুরো ক্যাম্পাসেই প্রশংসিত হচ্ছে।
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদ জোহর বিশেষ দোয়া ও তবারক বিতরণের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মাহফিল শেষে তবারক বিতরণের সময় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রশাসনের আগাম প্রস্তুতি অনুযায়ী প্রায় ১১০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য তবারকের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে শিক্ষার্থীদের অভূতপূর্ব সাড়া ও বিপুল উপস্থিতির কারণে সেই হিসাব ছাড়িয়ে যায়। তবারক বিতরণ শেষ হওয়ার পরও দেখা যায়, প্রায় চার থেকে পাঁচশ শিক্ষার্থী তবারক না পেয়ে সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করছেন।
সাধারণত বড় কোনো আয়োজনে খাবার বা তবারক শেষ হয়ে গেলে আমন্ত্রিতদের খালি হাতে ফিরে যাওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান শিক্ষার্থীদের এভাবে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে চাননি। মাহফিলে শিক্ষার্থীদের অপ্রাপ্তি ও মন খারাপের বিষয়টি অনুধাবন করে উপাচার্য তাৎক্ষণিকভাবে একটি ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জানান, মাহফিলে এসে কোনো শিক্ষার্থীই খালি হাতে ফিরে যাবেন না। তবারক না পাওয়া শিক্ষার্থীদের সম্মান জানাতে এবং তাদের মুখে হাসি ফোটাতে তিনি অবশিষ্ট প্রায় চার-পাঁচশ শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে তবারকের সমমূল্য হিসেবে নগদ ১০০ টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে অনুষ্ঠানস্থলেই নিজ তদারকিতে ওই অর্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু বছরের ইতিহাসে এমন ঘটনা এই প্রথম বলে জানানো হয়েছে। তবারক ফুরিয়ে যাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের হাত খালি না রেখে নগদ অর্থ দিয়ে তাদের সম্মান জানানোর এই উদ্যোগ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, তবারকের প্যাকেট কিংবা নগদ ১০০ টাকা পাওয়ার চেয়েও প্রশাসনের এই অভিভাবকতুল্য ভালোবাসা ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর এই নিবিড় বন্ধন এবং চবি প্রশাসনের উদ্যোগ ক্যাম্পাসের স্মৃতিতে একটি মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
/এএসএফ