কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরেক পর্যটক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা সোয়া দুইটার দিকে সৈকতের সি-গাল পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত পর্যটকের নাম মো. ইয়াসিন (২৫)। তিনি ঢাকার আফতাবনগর এলাকার বাসিন্দা। নিখোঁজ পর্যটক ইব্রাহিম খান (২৩) একই এলাকার বাসিন্দা। গত মঙ্গলবার তারা ঢাকা থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন।
পুলিশ ও লাইফগার্ড কর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে আসা ১০ জনের একটি দল বুধবার বেলা দেড়টার দিকে সুগন্ধা সৈকতে যায়। পরে বেলা সোয়া দুইটার দিকে দলটি সৈকতের উত্তর দিকে সি-গাল পয়েন্ট এলাকায় অবস্থান নেয়। সেখানে দলের পাঁচজন সাগরে গোসল করতে নামেন।
নিখোঁজ পর্যটকদের উদ্ধারে কাজ করা বেসরকারি সি-সেফ লাইফগার্ড স্টেশনের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে বঙ্গোপসাগর তখন প্রচণ্ড উত্তাল ছিল। এ ছাড়া সৈকতের সুগন্ধা থেকে সি-গাল হয়ে উত্তর দিকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় কয়েকটি গুপ্তখালের সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, গুপ্তখাল এলাকায় পর্যটকদের গোসলে নামতে নিষেধ করে একাধিক লাল নিশানাও ওড়ানো হচ্ছিল। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই ওই দলের পাঁচজন সি-গাল পয়েন্টে সাগরে নামেন।
ইমতিয়াজ আহমেদের ভাষ্য, গোসলের একপর্যায়ে বড় ঢেউয়ের ধাক্কায় দলের দুই সদস্য ইয়াসিন ও ইব্রাহিম সাগরে ডুবে নিখোঁজ হন। খবর পেয়ে লাইফগার্ড সদস্যরা দ্রুত সাগরে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে ইয়াসিনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “বিকেল পৌনে পাঁচটা পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়েও নিখোঁজ ইব্রাহিমের সন্ধান মেলেনি। সাগরও প্রচণ্ড উত্তাল থাকলেও তল্লাশি অব্যাহত রাখা হয়েছে।”
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, নিখোঁজ পর্যটকের সন্ধানে উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ইব্রাহিমের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, “নিখোঁজ পর্যটকের সন্ধানে তল্লাশি চলছে, তবে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত খোঁজ মেলেনি। নিহত ইয়াসিনের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।”
/এসএন