• ঢাকা
  • বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম


মায়ের পরীক্ষা, পুরো সময় শিক্ষার্থীর সন্তানকে সামলালেন শিক্ষক

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৪ আগস্ট ২০২৬ ৫:৩৯ পিএম

নারীদের এগিয়ে যাওয়ার পথে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিভাগের শিক্ষক আব্দুর রহমান রাহাদ। নির্ধারিত ক্লাস টেস্ট চলাকালে এক ছাত্রীর সন্তানকে নিজের কোলে রেখে তাকে সহপাঠীদের সঙ্গে একই সময়ে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশংসা পেয়েছে।

ঘটনার দিন সকালে নির্ধারিত কুইজ পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে এক শিক্ষার্থী তার কোলে থাকা সন্তানকে নিয়ে শিক্ষকের কাছে আসেন। তিনি শিক্ষককে জানান, পরীক্ষা চলাকালে শিশুটিকে দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই। তার স্বামীও অফিস থেকে ছুটি পাননি। এ কারণে তিনি নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে পরে পরীক্ষা দিতে চেয়েছিলেন। তার পরিকল্পনা ছিল, বন্ধুরা পরীক্ষা শেষ করার পর তাদের কাছে সন্তানকে রেখে তিনি পরীক্ষায় বসবেন।

শিক্ষার্থীর এই পরিস্থিতি দেখে শিক্ষক উপলব্ধি করেন, একজন নারীকে সফল হতে গিয়ে সংসার, সন্তান ও পারিপার্শ্বিক নানা বাধা অতিক্রম করতে হয়। তিনি চাইলে ওই শিক্ষার্থীকে পরে পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি দিতে পারতেন। তবে তার মনে হয়, এতে শিক্ষার্থীর জন্য একটি ভুল বার্তা তৈরি হতে পারে। কেবল সন্তানের কারণে যেন তিনি সহপাঠীদের তুলনায় পিছিয়ে না পড়েন কিংবা আলাদা হয়ে না যান, সেটিই তিনি নিশ্চিত করতে চেয়েছেন।

এরপর শিক্ষক শিক্ষার্থীকে জানান, শিশুটি যদি তার কাছে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, তাহলে পরীক্ষা চলাকালে তিনি নিজেই তাকে সামলাবেন। শিক্ষক হয়ে পরীক্ষার হলে শিশুকে কোলে নিয়ে থাকার বিষয়ে শিক্ষার্থী প্রথমে কিছুটা ইতস্তত বোধ করেন। তবে শিক্ষক তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, একজন মানুষ হিসেবে এটি তার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।

পরে পুরো পরীক্ষার সময় শিশুটি শিক্ষকের কোলেই ছিল। আর ওই শিক্ষার্থী তার সহপাঠীদের সঙ্গে একই সময়ে বসে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা শেষ করেন।

পরীক্ষা শেষে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ওই শিক্ষার্থী শিক্ষককে ধন্যবাদ জানান। তখন শিক্ষক তাকে অনুপ্রেরণামূলক একটি বার্তা দেন।

তিনি বলেন, ‘মাতৃত্ব কোনো বাধা নয়, বরং এটি জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। সন্তানদের সঙ্গে নিয়েই নিজের মেধার প্রমাণ দিয়ে আপনি সফলভাবে এগিয়ে যাবেন।’

শিক্ষকের এই উদ্যোগের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক প্রশংসা পায়।

/এসএন