• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩১ এএম


কোরআন-সুন্নাহতে ভিত্তি নেই, ঈদে মিলাদুন্নবী নিয়ে মক্কার ইমামের কড়া বার্তা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৩ আগস্ট ২০২৬ ৬:২৪ পিএম

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন বা ঈদে মিলাদুন্নবী পালন নিয়ে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আবদুর রহমান আস-সুদাইস। তিনি মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের ক্ষেত্রে তার সুন্নাহ অনুসরণ এবং সাহাবি ও পূর্বসূরি আলেমদের পথ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।‘মাওলিদ উদযাপনের বিধান সম্পর্কে একটি ব্যাখ্যা’ শিরোনামে দেওয়া বক্তব্যে শায়খ সুদাইস বলেন, কোরআন ও সুন্নাহতে মাওলিদ উদযাপনের কোনো ভিত্তি নেই। মহানবী (সা.), তার সাহাবি কিংবা খুলাফায়ে রাশেদিন কেউই এ ধরনের আয়োজন পালন করেননি। তার মতে, এটি একটি বিদআত।তিনি বলেন, নবীজি (সা.)-এর প্রতি সত্যিকারের ভালোবাসা প্রকাশের পথ হলো তার সুন্নাহ অনুসরণ করা। নতুন কোনো রীতি চালু করে ভালোবাসা প্রকাশের চেষ্টা করা উচিত নয়। বর্তমানে মাওলিদ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, অপচয় ও গান-বাজনার মতো বিষয়ও দেখা যায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।মুসলমানদের নবীজি (সা.)-এর অনুসরণ এবং দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু সংযোজন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে শায়খ সুদাইস কোরআনের একটি আয়াত উদ্ধৃত করেন। সেখানে বলা হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসুলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যে যারা দায়িত্বশীল তাদের আনুগত্য করো। কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতবিরোধ হলে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও।’মহানবী (সা.)-এর একটি হাদিস উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘সাবধান! তোমরা নতুন আবিষ্কৃত বিষয়গুলো হতে বেঁচে থাকো; কারণ, প্রতিটি নতুন আবিষ্কৃত বিষয় বিদ‘আত। আর প্রত্যেক বিদআত গোমরাহী, আর প্রত্যেক গোমরাহীর গন্তব্য জাহান্নাম।’আরেকটি হাদিসের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে আমার পর জীবিত থাকবে, সে অনেক মতভেদ বা অনৈক্য দেখবে। সুতরাং তোমরা আমার সুন্নত ও সুপথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের রীতিকে আঁকড়ে ধরবে এবং তা দাঁত দিয়ে মজবূত করে ধরে থাকবে। আর তোমরা দ্বীনে নব উদ্ভাবিত কর্মসমূহ (বিদআত) থেকে বেঁচে থাকবে। কারণ, প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা।’ধর্মীয় বিষয়ে নতুন কিছু সংযোজনের ব্যাপারে সাহাবিদের বক্তব্যও তুলে ধরেন আস-সুদাইস। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর বক্তব্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনুসরণ করো, নতুন কিছু উদ্ভাবন করো না। তোমাদের জন্য যথেষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। পূর্বের পথ দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো, সেটিই তোমাদের জন্য যথেষ্ট।’ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর একটি বক্তব্যও তিনি উল্লেখ করেন। সেখানে বলা হয়েছে, ‘প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা, মানুষ সেটিকে ভালো মনে করলেও।’এ ছাড়া ইমাম ইবনে তাইমিয়্যার বক্তব্যও তুলে ধরেন শায়খ সুদাইস। ইবনে তাইমিয়্যার বক্তব্য অনুযায়ী, শরিয়তে ভিত্তি নেই—এমন কোনো সময়কে ধর্মীয় উপলক্ষ হিসেবে গ্রহণ করা হলে তা বিদআত। এর উদাহরণ হিসেবে রবিউল আউয়াল মাসের এমন রাতগুলো উদযাপনের কথা বলা হয়েছে, যেগুলোকে নবীজির জন্মদিন হিসেবে ধরা হয়। নেককার পূর্বসূরিরা এসব পালন করেননি বলেও তার বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়। মাওলিদের জন্য সমবেত হওয়ার মধ্যে ধর্মীয় কল্যাণ নেই এবং এতে খ্রিস্টানদের রীতির সাদৃশ্য রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।শায়খ সুদাইস বলেন, রবিউল আউয়াল মাসে আয়োজিত মাওলিদ উদযাপনগুলোতে নাচ-গান, খাওয়া-দাওয়া এবং মাহরাম নন—এমন নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার মতো বিষয় যুক্ত হয়েছে। এসব অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা মনে করেন, তারা নবীজি (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করছেন। কিন্তু বাস্তবে তারা এমন কিছু রীতি অনুসরণ করছেন, যার নির্দেশ নবীজি (সা.) দেননি।নবীজি (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের প্রকৃত পথ হিসেবে তার সুন্নাহ অনুসরণের ওপর জোর দিয়ে তিনি কোরআনের আরেকটি আয়াত উদ্ধৃত করেন। সেখানে বলা হয়েছে, ‘বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো, তাহলে আমার অনুসরণ করো। আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপ ক্ষমা করবেন।’বক্তব্যের শেষ দিকে মুসলমানদের উদ্দেশে সরাসরি বার্তা দেন আস-সুদাইস। তিনি বলেন, ‘তোমাদের নিজেদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। এসব বিদআত ও ভ্রষ্টতা পরিত্যাগ করো। তোমাদের নবীর সুন্নাহ দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো। ইসলাম অপরিচিত অবস্থায় শুরু হয়েছিল এবং আবারও অপরিচিত হয়ে ফিরে আসবে। তাই অপরিচিতদের জন্য সুসংবাদ।’

সূত্র: দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন

/বিএসএস