• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩০ এএম


৩২ বছর পর পরিবারের সন্ধান পেয়েছেন পাকিস্তানে পাচার হওয়া আছিয়া

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৩ আগস্ট ২০২৬ ২:৫৬ পিএম

১৬ বছর বয়সে ঢাকা থেকে পাকিস্তানে পাচার হয়ে যান বরগুনার মেয়ে আছিয়া। এরপর কেটে গেছে তিন দশকেরও বেশি সময়। পরিবারের কেউ জানতেন না তিনি কোথায় আছেন, বেঁচে আছেন কি না। দীর্ঘ ৩২ বছর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সেই আছিয়ার সন্ধান পেয়েছে পরিবার। এখন সাত সন্তানের জননী আছিয়া দেশে ফিরে ৯০ বছর বয়সি বাবার সঙ্গে দেখা করতে চান।

আছিয়া ও তার পরিবার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নব্বইয়ের দশকের শুরুতে অভাবের কারণে জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় যায় আছিয়ার পরিবার। তারা মিরপুরের বড়বাগ এলাকায় বাসাভাড়া নিয়ে থাকতেন। আছিয়ার বাবা তমিজ উদ্দিন দিনমজুরের কাজ করতেন।

১৯৯৪ সালের দিকে এক বিকেলে বরগুনা যাওয়ার কথা বলে ১৬ বছরের আছিয়া বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর ফিরে আসেননি। অনেক খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার। একপর্যায়ে মেয়েকে হারানোর বেদনা নিয়েই গ্রামে ফিরে আসে পরিবার।

এরপর কেটে যায় বছরের পর বছর। এর মধ্যে আছিয়ার পাঁচ বোনের বিয়ে হয়েছে, ভাইও সংসার শুরু করেছেন। মেয়ের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে তিন বছর আগে মারা যান আছিয়ার মা রাহেলা।

সম্প্রতি নিজের পরিচয় এবং বাংলাদেশে থাকা বাবার ঠিকানা জানিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন আছিয়ার মেয়ে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বাংলাদেশে থাকা আছিয়ার এলাকার এক ব্যক্তি বিষয়টি জানতে পারেন। ঠিকানা যাচাই করে তিনি আছিয়ার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

এরপর তমিজ উদ্দিন, তার ছেলে মোস্তফা ও মেয়েদের ছবি আছিয়ার কাছে পাঠানো হয়। ছবিগুলো দেখেই দীর্ঘদিন পর হারিয়ে যাওয়া পরিবারের সদস্যদের চিনতে পারেন তিনি।

বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের চারাভাঙ্গা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, জীর্ণ ঘরে বসে আছেন ৯০ বছর বয়সি তমিজ উদ্দিন হাওলাদার। বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে শরীর, ঝাপসা হয়ে এসেছে দৃষ্টি। তবু অপেক্ষা মেয়ের জন্য।

প্রতিবেশী রিয়াজ মোবাইল নিয়ে এলেই তমিজ উদ্দিনের মুখে ভেসে ওঠে অন্যরকম অভিব্যক্তি। মোবাইলের পর্দায় মেয়ের মুখ দেখলে কখনো হাসেন, আবার কখনো চোখের পানি মুছেন। মেয়ের কণ্ঠ শুনতে পান, প্রতিদিন কথাও হয়। কিন্তু ৩২ বছরের অপেক্ষা যেন এখনো শেষ হয়নি। কারণ, মেয়েকে দেখা যায়, কিন্তু ছোঁয়া যায় না।

মেয়েকে দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানিয়ে তমিজ উদ্দিন বলেন, ‘মরার আগে আমার আছিয়ারারে একবার দেখতে চাই।’ তিনি জানান, ৯০ বছর বয়সে মেয়েকে না পেয়ে শোকে কাতর ছিলেন। এখন আল্লাহ তার মেয়ের খোঁজ দিয়েছেন। মৃত্যুর আগে অন্তত একবার মেয়েকে ছুঁয়ে দেখতে চান তিনি।

আছিয়ার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ স্থাপনে ভূমিকা রাখা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ফেসবুকে তাদের গ্রামের এক নারীর হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একটি পোস্ট দেখতে পান তিনি। পরে এলাকার মুরব্বিদের সঙ্গে কথা বলে আছিয়ার বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হন। এরপর আছিয়ার ফুফুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার ফোনের মাধ্যমেই এখন দুই পরিবারের যোগাযোগ চলছে।

রিয়াজ উদ্দিন বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, আছিয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনতে যেন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়।

/এএসএফ