• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২৫ এএম


ব্যবহারিকের নামে ২ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিরুদ্ধে

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১২ আগস্ট ২০২৬ ৬:২৩ পিএম

২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ব্যবহারিকের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া যাবে না—ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এমন নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি গ্রুপভেদে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৮০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছে।

গত ৪ আগস্ট ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যবহারিকের নামে অতিরিক্ত অর্থ না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ওই নির্দেশনার পরও সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখায় টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখা থেকে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। সে হিসাবে ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি হিসেবে গড়ে ১২ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী ইত্তেফাক মাল্টিমিডিয়াকে বলেন, ‘এখনো ব্যবহারিক পরীক্ষা বাকি, কোনোভাবে যদি জানতে পারে আমি/আমরা সাংবাদিকের কাছে এ তথ্য দিয়েছি, তাহলে আমাকে ফেল করিয়ে দিবে।’

বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো টাকা নেওয়া যাবে না—এ বিষয়টি তারা জানেন কি না, জানতে চাইলে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘ফরম ফিলাপ করার পরও শুনেছি আমাদের থেকে বেশি টাকা নিয়েছে, টাকা তো ফেরত দেয়নি, তাই এখন ব্যবহারিকে টাকা না নেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তো টাকা নিচ্ছে, স্কুল কলেজে কী হয় বোর্ড অবগত, কই কখনো টাকা ফেরত দিয়েছে উদাহরণ নেই। কিংবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে তারও নজির নেই। শুধু শুধু আমরা দুই চারজন কথা বলে নিজেদের বিপদে ফেলতে চাই না।’

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম নামের এক অভিভাবক ইত্তেফাক মাল্টিমিডিয়াকে বলেন, ‘সবার কাছ থেকেই টাকা নিচ্ছে, কিন্তু মানি রিসিট দিচ্ছে না, আর টাকা অভিভাবকদের সরাসরি দেওয়ার সুযোগ নেই। স্টুডেন্টের মাধ্যমে নিচ্ছে। তাই আমাদের কিছু বলারও সুযোগ নেই।’

বোর্ডের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও টাকা নেওয়া হলে বোর্ডে অভিযোগ করা যায় এবং বোর্ড ব্যবস্থা নেবে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই অভিভাবক বলেন, ‘বোর্ড ভালো করেই জানে কেউ অভিযোগ করবে না, তাই তারাও এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্কুলের সাথে ভাগবাটোয়ারা করে খায়। কোন স্কুলে কী হয় বোর্ড কর্তারা সবাই জানেন, আর যুক্তির খাতিরে যদি বলেন তারা জানে না, তাহলে বলবো তারা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে না, তাদের এ পদে থাকার যোগ্যতা নেই।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ব্যবহারিকের জন্য টাকা নিচ্ছে এর কোনো মানি রিসিট দেয়নি। আমি আপনার কাছে বলবো আপনি লিখবেন, কিন্তু প্রমাণ দিতে পারবেন না, ২০০০ টাকা নিচ্ছে এটা সত্যি। কিন্তু কথা বললে বিপদ হবে, নাম্বার কম দিবে, ফেলও করিয়ে দিতে পারে। স্কুলে ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে কত টাকাই তো দিয়েছি, তাই এই দুই হাজার টাকার জন্য নিজের রেজাল্ট খারাপ করতে চাই না।’

অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান ইত্তেফাক মাল্টিমিডিয়াকে বলেন, ‘বোর্ড থেকে এবার কড়া নির্দেশনা দেওয়া আছে ব্যবহারিকের নামে কোনো অর্থ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া যাবে না। তারপরও যদি কোনো প্রতিষ্ঠান টাকা নিয়ে থাকে আপনি তুলে ধরেন, আমি ওদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো। এরা বিভিন্ন উপায়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে, অনেক ক্ষেত্রে মানি রিসিটও দেয় না, অভিভাবকরা এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতেও ভয় পায়। আর এ সুযোগটা এরা নেয়।’

ব্যবহারিকের নামে ২ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের আহ্বায়ক প্রফেসর জেসমিন তাসলিমা বানু ইত্তেফাক মাল্টিমিডিয়াকে বলেন, ‘কিছু প্রতিষ্ঠানকে বারবার সতর্ক করার পরও অনিয়ম বন্ধ করা যাচ্ছে না, এবার এদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নিবো যাতে আগামীতে আর কেউ সাহস না পায় বোর্ডের নির্দেশনা অমান্য করার। শিক্ষাটাকে এরা ব্যবসায় রূপান্তর করেছে।’

তিনি সাংবাদিকদের এসব প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের বিষয়ে সঠিক তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানান।

সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে ২ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির এডহক কমিটির চেয়ারম্যান ও গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, ‘বোর্ডের নির্দেশনার বাইরে টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। যেহেতু এ বিষয়টি আমি এখনো জানি না, আপনার কাছ থেকে শুনলাম টাকা নিচ্ছে। তাই অধ্যক্ষের কাছ থেকে আমি জানতে চাইবো।’

তিনি আরও বলেন, অধ্যক্ষ তার ফোনও দিনের বেলায় ধরেন না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান মোল্লার সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে তার হোয়াটসঅ্যাপে বোর্ডের নোটিশ এবং এ বিষয়ে প্রশ্ন পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

/এসএন