• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২৫ এএম


আবারও ‘সমকা/মিতার’ অভি/যোগে ঢাবির হল থেকে বহি/ষ্কার ২ শিক্ষার্থী

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১২ আগস্ট ২০২৬ ২:৩৬ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ‘সমকামিতা’র অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের পর তাদের দুজনকেই হল থেকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

হলের প্রোভোস্ট ড. মো. আখতারুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযোগের বিষয়টি জানার পর দুই শিক্ষার্থীর আসন বাতিল করে তাদের হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনাটিকে প্রাথমিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে নিয়েছে হল প্রশাসন।

এদিকে ঘটনার বিস্তারিত তদন্তে হলের হাউস টিউটর ও সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম সোহাগকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মুজিব হল সংসদের জিএস আহমেদ আল সাবাহ জানান, অভিযোগে অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থীই প্রথম বর্ষের। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি। পরে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলেও জানান তিনি।

আহমেদ আল সাবাহর ভাষ্য অনুযায়ী, সহকারী প্রক্টরের উপস্থিতিতে দুই শিক্ষার্থীর আসন বাতিল করা হয়। পরে স্থানীয় অভিভাবকদের উপস্থিতিতে তাদের হল থেকে বের করে দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আরও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের একজন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি অনেকটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার ভাষ্য, ‘আমি এমন কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই।’

ওই শিক্ষার্থী বলেন, তার একজন রুমমেট গত কিছুদিন ধরে তাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে প্রশ্ন করছিলেন। তার বাসা গোপালগঞ্জ হওয়ায় রুমমেট তাকে গোপালগঞ্জে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন করতেন।

তিনি বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরের আওয়ামী লীগ আমলের কারণে মানুষের মনে এমন ধারণা হয়েছে যে গোপালগঞ্জ মানে খারাপ কিছু। গোপালগঞ্জ পরিচয় দেওয়ার পরে অনেকে আমার দিকে নেতিবাচকভাবে তাকিয়ে থাকে।’

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর দাবি, যেসব ছবি ও ভিডিওকে তার বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো তার ওই রুমমেটই করেছেন। তার সঙ্গে হল সংসদের জিএসের ভালো সম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই শিক্ষার্থী আরও অভিযোগ করেন, তার রুমমেটই এসব ছবি ও ভিডিও জিএসকে দিয়েছেন।

ঘটনার পর তাকে ছাত্রদলের কর্মী হিসেবেও প্রচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষার্থী। তবে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা এবং এর পেছনের কারণ নির্ধারণে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

/এসএন