• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম


৫ হাজার শরণার্থীকে দেশে ফেরাতে প্রস্তুত মিয়ানমা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১০ আগস্ট ২০২৬ ৮:৪১ পিএম

মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নেওয়া প্রাথমিক ৫ হাজার শরণার্থীকে দেশে ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে মিয়ানমার। প্রত্যাবাসনের সম্ভাব্য তালিকায় রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি দেশটির বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সংঘাতপীড়িত ও বাস্তুচ্যুত মানুষও রয়েছেন। তবে শরণার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে মালয়েশিয়া।সোমবার (১০ আগস্ট) মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসান জানিয়েছেন, সম্প্রতি মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিন মং সুয়ের সঙ্গে বৈঠকে শরণার্থী প্রত্যাবাসনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ওই বৈঠকে মিয়ানমার প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার শরণার্থীকে জাহাজে করে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।তবে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় শরণার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় উদ্বেগ বলে উল্লেখ করেছেন মোহাম্মদ হাসান। তাঁর মতে, মিয়ানমারের শরণার্থী সংকটকে শুধু রোহিঙ্গা ইস্যু হিসেবে দেখলে পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে না। দেশটির বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষও দীর্ঘদিনের সংঘাত ও সহিংসতার কারণে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চিন ও কারেন সম্প্রদায়ের অনেক মানুষও সংঘাতের কারণে মিয়ানমার ছেড়ে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছেন। তাই প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে শরণার্থীদের জাতিগত পরিচয়ের বাইরে গিয়ে সবার নিরাপত্তা ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।এর আগে জুলাইয়ের শেষ দিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছিলেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রাথমিক ৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সম্মতি জানিয়েছে।তবে প্রত্যাবাসন কবে শুরু হবে এবং কীভাবে শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত পরিকল্পনা স্পষ্ট হয়নি।দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ায় অন্যতম বৃহৎ রোহিঙ্গা শরণার্থী জনগোষ্ঠী রয়েছে। তাঁদের বড় একটি অংশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও সহিংসতার শিকার হয়ে দেশ ছেড়ে মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন।রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। তবে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও অধিকারসংক্রান্ত অনিশ্চয়তার কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এখনো বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।এ কারণে প্রত্যাবাসনের আগে শরণার্থীদের নিরাপত্তা, মানবিক মর্যাদা এবং মিয়ানমারে ফেরার পর তাঁদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে মালয়েশিয়া।

/বিএসএস