• ঢাকা
  • বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম


২০৪৫ সালের মধ্যে ঢাকায় ৮ মেট্রোরেল, ৬ এক্সপ্রেসওয়ে ও ২১ পরিবহন হাব নির্মাণের পরিকল্পনা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৫ আগস্ট ২০২৬ ৩:২৯ পিএম

ঢাকা মহানগর ও আশপাশের অঞ্চলে সমন্বিত, দীর্ঘমেয়াদি এবং মাল্টিমোডাল গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নতুন কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। সংস্থাটির ‘স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান (এসটিপি) ২০২৬–২০৪৫’ অনুযায়ী, ২০৪৫ সালের মধ্যে রাজধানীর মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক ২৬৮ দশমিক ৫ কিলোমিটারে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ডিটিসিএ ভবনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। ডিটিসিএর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় বৃহত্তর ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থার কৌশলগত দিকনির্দেশনা, চলমান প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজধানীতে ৮টি মেট্রোরেল (এমআরটি) লাইন, ২টি বিআরটি লাইন, ৩টি রিং রোড, ৮টি রেডিয়াল সড়ক, ৬টি এক্সপ্রেসওয়ে এবং ২১টি পরিবহন হাব নির্মাণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

ডিটিসিএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ঢাকায় মেট্রোরেলের মোট দৈর্ঘ্য ছিল ১৯ দশমিক ৮ কিলোমিটার। পরিকল্পনা অনুযায়ী এই নেটওয়ার্ক ২০৩০ সালে ৭২ দশমিক ২ কিলোমিটার, ২০৩৫ সালে ১৩৭ দশমিক ৮ কিলোমিটার এবং ২০৪৫ সালে ২৬৮ দশমিক ৫ কিলোমিটারে উন্নীত হবে।

সভায় নগরীতে গণপরিবহনের ব্যবহার কমে যাওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। ডিটিসিএর হিসাবে, ২০১৪ সালে দৈনন্দিন যাতায়াতে গণপরিবহনের অংশ ছিল ২২ দশমিক ৮ শতাংশ। কিন্তু ২০২৩ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮ দশমিক ৯ শতাংশে। একই সময়ে মোটরসাইকেল, তিন চাকার যানবাহন এবং ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার বেড়েছে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে নির্ভরযোগ্য, সমন্বিত ও আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

মেট্রোরেলের ফিডার সার্ভিস হিসেবে প্রায় ৭৯ দশমিক ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পাঁচটি মনোরেল করিডরের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। এসব করিডরের প্রাক্-সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)কে দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিটিসিএ।

যানজট নিরসনে ঢাকার চারপাশে তিনটি রিং রোড নির্মাণের কাজ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সদরঘাট থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত একটি বৃত্তাকার নৌপথ এবং একাধিক ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

আলোচনা সভায় জানানো হয়, আন্তজেলা বাস টার্মিনালগুলো ধাপে ধাপে রাজধানীর বাইরে স্থানান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে বাস রুট রেশনালাইজেশন এবং কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনার অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়েছে। ডিটিসিএর তথ্য অনুযায়ী, বিআরটিএ অনুমোদিত ৪১৮টি বাস রুটের মধ্যে বর্তমানে সচল রয়েছে মাত্র ৯৮টি। এ বাস্তবতায় ৩২টি প্রধান রুট এবং ২৫টি ফিডার রুট নিয়ে নতুন বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সভায় ‘র‌্যাপিড পাস’ কার্যক্রমের অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়। ডিটিসিএ জানিয়েছে, বর্তমানে ১৯ লাখ ৩৭ হাজারের বেশি যাত্রী এই স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করছেন। শুধু মেট্রোরেলেই প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৭০ লাখ যাত্রা এই কার্ডের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।

বাংলাদেশ ক্লিন এয়ার প্রজেক্টের আওতায় রাজধানীতে ৪০০টি বৈদ্যুতিক বাস চালুর প্রস্তুতিও চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩১ সালের আগস্টের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

গাবতলী, কমলাপুর ও বিমানবন্দর এলাকায় মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব নির্মাণের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। এসব হাবে মেট্রোরেল, বাস, রেল, নৌ ও বিমান পরিবহনকে সমন্বিত করে যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান।

উল্লেখ্য, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জ জেলা নিয়ে গঠিত অঞ্চলের পরিবহন পরিকল্পনা সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছে ডিটিসিএ। ১১টি মন্ত্রণালয় এবং ২৭টির বেশি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই অঞ্চলের পরিবহন অবকাঠামোর পরিকল্পনা, সমন্বয় ও তদারকির কাজ পরিচালনা করে সংস্থাটি।

/এসএন