• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম


আল-আরাফাহ্ ব্যাংকের নতুন পর্ষদে কেডিএসের প্রাধান্য, দুই পরিচালক বাদ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩১ জুলাই ২০২৬ ১১:১৩ পিএম

সরকারের উচ্চপর্যায়ের ইচ্ছায় আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনার দায়িত্ব আবারও পুরোনো উদ্যোক্তাদের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে—এমন ব্যক্তিরাও ব্যাংকটির নতুন পরিচালনা পর্ষদে স্থান পেয়েছেন। তবে পরিচালক নিয়োগের মাত্র দুই দিনের মাথায় বাধ্য হয়ে দুজনকে পর্ষদ থেকে বাদ দিতে হয়েছে।

নতুন করে পর্ষদ পুনর্গঠনের ফলে ব্যাংকটির মূল নিয়ন্ত্রণ চলে এসেছে চট্টগ্রামভিত্তিক কেডিএস গ্রুপের হাতে। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কেডিএস গ্রুপ আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের পাশাপাশি ন্যাশনাল ব্যাংকের দায়িত্বেও ছিল। ওই দুই ব্যাংকেই কেডিএসের সঙ্গে যুক্ত ছিল বিতর্কিত এস আলম গ্রুপ।

পর্ষদ পুনর্গঠনের পরপরই নতুন নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন পরিচালক ব্যাংক থেকে আগে চাকরিচ্যুত ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের আবার ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি নবগঠিত পর্ষদের প্রথম সভাতেও এসব বিতর্কিত কর্মকর্তার কয়েকজনকে দেখা গেছে। একই সময়ে নতুন পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংকটির একজন উপব্যবস্থাপনা পরিচালককে (ডিএমডি) পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে ব্যাংকটির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বদিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর ব্যাংকে ফিরে এসেছি। এখন আমার মূল দায়িত্ব ব্যাংকটিকে পেশাদারির সঙ্গে পরিচালিত করা, যাতে নতুন করে কোনো অনিয়ম না হয়। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে যাঁদের চাকরি গেছে, তাঁদের ফিরিয়ে আনার সুযোগ নেই। নতুন করে অনিয়ম হলে ব্যাংকটি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে। চেয়ারম্যান হিসেবে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করাই আমার প্রধান কাজ।’

এস আলমের নিয়ন্ত্রণে ছিল ব্যাংকটি

আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। সে সময় ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন এস আলমের (সাইফুল আলম) ভাই আবদুস সামাদ লাবু। এস আলম গ্রুপের পাশাপাশি ব্যাংকটিতে সক্রিয় ছিল কেডিএস গ্রুপ।

২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির পর্ষদ ভেঙে দিয়ে একটি স্বতন্ত্র পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে। ওই পর্ষদের চেয়ারম্যান করা হয় লংকাবাংলা ফিন্যান্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাজা শাহরিয়ারকে। অন্য স্বতন্ত্র পরিচালকদের মধ্যে ছিলেন মো. শাহীন উল ইসলাম, মো. আবদুল ওয়াদুদ, এম আবু ইউসুফ ও মোহাম্মদ আশরাফুল হাসান।

পর্ষদ পুনর্গঠনের আগপর্যন্ত স্বতন্ত্র পরিচালকেরাই ব্যাংকটি পরিচালনা করেন। তাঁদের সময়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে ব্যাংকটিতে নিরীক্ষা করা হয়। এসব নিরীক্ষায় ব্যাংকটির বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য উঠে আসে।

গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নিতে দুটি পক্ষ সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর মধ্যে কেডিএস গ্রুপ ব্যাংকটির মালিকানা ফেরত চায়। অন্য একটি পক্ষ তাদের শেয়ারের বিপরীতে পরিচালক পদ দাবি করে। এ পক্ষে ছিলেন সাবেক পরিচালক ও বর্তমান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন (কায়কোবাদ)।

সরকারের একটি পর্যায় থেকে দুই পক্ষের মধ্যে যাঁদের হাতে ২ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা ছিল, তাঁদের হাতে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আগের পাঁচ স্বতন্ত্র পরিচালককেও বহাল রাখা হয়।

নতুন পর্ষদে কেডিএস পরিবারের ছয়জন

বাংলাদেশ ব্যাংক শেয়ারধারীদের মধ্য থেকে যে ১৪ জনকে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে নিয়োগ দিয়েছে, তাঁদের মধ্যে ছয়জনই কেডিএস গ্রুপ ও গ্রুপটির শীর্ষ নেতৃত্বের আত্মীয়স্বজন। তাঁরা হলেন কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, তাঁর ছেলে সেলিম রহমান, খলিলুর রহমানের ভাই আহমেদুল হক, কেডিএস গার্মেন্টসের প্রতিনিধি পরিচালক মাহবুব আহমেদ, কেডিএস টেক্সটাইলের প্রতিনিধি পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এবং কেওয়াই স্টিল মিলসের প্রতিনিধি মোহাম্মদ শরিফ উদ্দিন তসলিম। এ ছাড়া কেডিএস মালিকদের আত্মীয়রাও পর্ষদে নিয়োগ পেয়েছেন।

পর্ষদে নিয়োগ পাওয়া অন্য পরিচালকদের মধ্যে ব্যাংকটির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বদিউর রহমানও কেডিএস পরিবার-সংশ্লিষ্ট। অন্য পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন সর্বশেষ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনে জামায়াতের হয়ে নির্বাচন করা মো. এনায়াত উল্লা, রফিকুল ইসলাম, ইমাদুর রহমান, নাজমুল আহসান খালেদ, আনোয়ার হোসাইন, আবদুস সালাম ও লিয়াকত আলী চৌধুরী।

মো. এনায়াত উল্লা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি বহুদিন পর ব্যাংকের পরিচালক পদ ফিরে পেয়েছি। নতুন করে আর কাউকে অনিয়ম করার সুযোগ দেওয়া হবে না।’

কেডিএস গ্রুপ থেকে পাঁচজন পরিচালক নিয়োগ দেওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও মোহাম্মদ শরিফ উদ্দিন তসলিম পরিচালক পদ গ্রহণ করেননি। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, একই পরিবার বা গ্রুপ থেকে তিনজনের বেশি পরিচালক থাকার সুযোগ নেই। ফলে কেডিএসের এই দুই প্রতিনিধি বাদ যাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক খন্দকার মেজবাহ উদ্দিন আহমেদকে নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ‘কয়েকটি ব্যাংক দীর্ঘদিন স্বতন্ত্র পরিচালকদের দিয়ে চলছে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে এভাবেই চলছে। তাই আমরাও চেয়েছিলাম ব্যাংকগুলো ভালো ও প্রকৃত শেয়ারধারীদের হাতে ফিরুক, তবে শুরুটা ভালো হলো না। সরকারের উচ্চপর্যায়ের চাপে বাধ্য হয়ে একটি গ্রুপের হাতে আল-আরাফাহ্ ব্যাংকটি তুলে দিতে হয়েছে।’

পর্ষদের প্রথম সভাতেই বিতর্কিত কর্মকর্তারা

১৫ জুলাই আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। এর পরদিনই পরিচালনা পর্ষদের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান। আর নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন কেডিএসের সেলিম রহমান।

সভায় উপস্থিত দুজন পরিচালক প্রথম আলোকে জানান, পর্ষদ সভায় ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত শাহেদ সিদ্দিকীসহ আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। ১৯ পরিচালকের সভাটি সর্বোচ্চ ২৫ জনের উপস্থিতিতে হওয়ার কথা থাকলেও সভায় উপস্থিত ছিলেন ৪০ জনের বেশি। কেডিএসের প্রতিনিধিরা ব্যাংকে ফিরে আসায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের কেউ কেউ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এ সময় স্বতন্ত্র পরিচালকেরা নীরব ছিলেন।

ব্যাংকটির একাধিক কর্মকর্তা জানান, গত দুই বছরে বিভিন্ন কারণে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা ব্যাংকে ফিরে আসার জন্য নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছেন। এ ছাড়া গত দুই বছরে ব্যাংকে নতুন করে যোগ দেওয়া কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন নতুন চেয়ারম্যান, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান। তাঁদের নির্দেশে ব্যাংকটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন চাকরি ছেড়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বদিউর রহমান বলেন, ‘আমি দুই পক্ষের সম্মতিতে ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছি। পর্ষদ সভার দিন অনেকে দেখা করতে এসেছেন। এ জন্য পরিবেশটা ভালো ছিল না। ডিএমডি নিজের ইচ্ছাতেই পদত্যাগ করেছেন। আমরা কোনো নির্দেশনা দিইনি।’

দুই চেয়ারম্যানের জন্য সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার গাড়ি

আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক দুই চেয়ারম্যানের ব্যবহারের জন্য অনিয়ম ও নিয়মবহির্ভূতভাবে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার বিলাসবহুল মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি কেনার তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান কেপিএমজি এবং ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে। তাঁদের একজন কেডিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম রহমান, যিনি বর্তমানে ব্যাংকটির নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান। অপর সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ লাবু, যিনি এস আলমের ভাই।

প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৫ জুন ব্যাংকের ৩৭৪তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় তৎকালীন চেয়ারম্যান সেলিম রহমানের জন্য এক কোটি টাকা সীমার মধ্যে একটি গাড়ি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পর্ষদের অনুমোদন উপেক্ষা করে ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি কেনা হয়। অনুমোদিত সীমার চেয়ে এই ব্যয় ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা বেশি।

একইভাবে ২০২৩ সালের আগস্টে কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই অপর সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সামাদের জন্য ৩ কোটি ২৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকায় একই মডেলের আরেকটি মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি কেনা হয়।

হিসাব গোপন ও অর্থের গতিবিধি আড়াল করতে গাড়ি দুটি ব্যাংকের নিজস্ব নামে নিবন্ধন না করে দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের—এআইবিএল ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড এবং এআইবিএল ক্যাপিটাল মার্কেট সার্ভিসেস লিমিটেড—নামে কেনা হয়। অর্থ পরিশোধের সময় ব্যাংকের সাধারণ ‘সাসপেন্স অ্যাকাউন্ট’, ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অ্যাকাউন্ট’ এবং ‘ক্ষতিপূরণ আদায়কৃত হিসাব’ ব্যবহার করা হয়।

গাড়ি দুটি কেনার পর মূল ব্যাংক কিংবা সহযোগী কোম্পানির ফিক্সড অ্যাসেট বা স্থায়ী সম্পদ রেজিস্টারে সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। গাড়ি দুটির কোনো অবচয়ও হিসাবভুক্ত করা হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তির কারণে গাড়ি দুটি ইতিমধ্যে ব্যাংকের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জড়িত নির্বাহী ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং অননুমোদিত অর্থ পুনরুদ্ধারে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

কেডিএস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধেও মামলা

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে এস আলম গ্রুপ ন্যাশনাল ব্যাংক দখল করার পর ওই ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক তাঁকে অপসারণ করে। এখন তাঁকেই আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক করা হয়েছে।

ন্যাশনাল ব্যাংকের দায়িত্বে থাকাকালে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে খলিলুর রহমান একাধিক মামলার আসামি হন। গত ফেব্রুয়ারিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাগারেও ছিলেন।

ব্যাংকের আর্থিক চিত্র

১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ গত বছরের ডিসেম্বর শেষে দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা। একই সময়ে ব্যাংকটির ঋণ বা বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৫০ হাজার ১২১ কোটি টাকা। ব্যাংকটির মোট ঋণের ১৭ দশমিক ৬১ শতাংশ খেলাপি।

গত বছর ব্যাংকটি নিট মুনাফা করেছে ৮৫ কোটি টাকা। উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে শেয়ারধারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি ব্যাংকটি। এর ফলে ব্যাংকটি শেয়ারবাজারে জেড ক্যাটাগরিতে চলে গেছে।

সারা দেশে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ২২৬টি শাখা রয়েছে। ব্যাংকটিতে কর্মরত আছেন ৫ হাজার ৫৯৩ জন কর্মী।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরী প্রথম আলোকে বলেন, ব্যাংকগুলো শেয়ারধারী পরিচালকদের মাধ্যমে পরিচালিত হবে, এটি স্বাভাবিক। কিন্তু তাঁরা এত দিন কী করেছেন, তা দেশবাসী দেখেছে। এ কারণে অনেক আমানতকারী এখন তাঁদের টাকা ফেরত পাচ্ছেন না।

তিনি বলেন, নতুন করে এমন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া ঠিক হবে না, যাঁরা ব্যাংকের জন্য ন্যূনতম ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন। অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া উচিত। বাংলাদেশ ব্যাংক আবার কারও প্রভাবে ব্যবহৃত হলে সেটি জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক হবে।