বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা প্রায় শেষের দিকে। ঠিক তখনই এক তরুণী বিয়ের আসরে হাজির হয়ে বরের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করেন। এ ঘটনায় শেষ পর্যন্ত বিয়ে ভেঙে যায়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিখোঁজ হন বরের বাবা। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশ থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, অপমান ও মানসিক আঘাত সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
গতকাল বুধবার নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পানিশানা (পূর্বপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুরুজ মিয়ার বয়স ৫০ বছর। তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা।
এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বরের প্রেমিকা হিসেবে দাবি করা তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার অপর আসামি বর হেলাল মিয়া পলাতক রয়েছেন। তিনি গাজীপুরের একটি তৈরি পোশাক কারখানায় গাড়িচালক হিসেবে কাজ করেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার হেলাল মিয়ার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী একটি গ্রামের এক তরুণীর বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল। দুপুরে বরযাত্রী নিয়ে কনের বাড়িতে যান হেলাল।
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা চলার সময় বেলা সাড়ে তিনটার দিকে কুড়িগ্রামের কচাকাটা উপজেলার এক তরুণী তাঁর মামাতো বোনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে হাজির হন। ওই তরুণী দাবি করেন, হেলালের সঙ্গে তাঁর প্রায় ১০ মাসের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। তাঁদের বিয়ের কথাও ছিল।
তরুণীর দাবি, সম্প্রতি হেলাল তাঁর মুঠোফোন বন্ধ করে অন্যত্র বিয়ে করতে চলে এসেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে বিয়েবাড়িতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিয়ে ভেঙে যায়। পরে বরপক্ষ কনেপক্ষকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বাড়ি ফিরে আসে।
মামলার এজাহার ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছেলের বিয়ে ভেঙে যাওয়া এবং এ ঘটনায় সামাজিকভাবে অপমানিত হওয়ার পর সুরুজ মিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। বুধবার রাতে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন।
পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে রাত ১১টার দিকে বাড়ির পাশে একটি আমগাছে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তাঁরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আজ সকালে মরদেহ নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে নিহত সুরুজ মিয়ার ছোট ভাই তারা মিয়া বলেন, ‘ঘটনায় আজ দুপুরে আমি বাদী হয়ে ওই তরুণী ও আমার ভাতিজা হেলাল মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছি।’
বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রথম আলোকে এসব তথ্য জানান পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, মামলায় ওই তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হেলাল মিয়া পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মজিবুর রহমান বলেন, বিয়ের আসরে এক তরুণী প্রেমের সম্পর্কের দাবি তোলায় বিয়ে ভেঙে যায়। পরে বরপক্ষ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ফিরে আসে। ওই ঘটনার অপমান ও মানসিক আঘাতেই সুরুজ মিয়া আত্মহত্যা করেছেন বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন।