• ঢাকা
  • রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৩ এএম


অভিভাবক না থাকায় নিজেই বন্ডে স্বাক্ষর, এক চোখ হারালেন এনসিপিকর্মী আলিফ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩০ জুলাই ২০২৬ ১০:৩৫ পিএম

হবিগঞ্জে হামলায় আহত আলিফের বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি আর ফিরবে না

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত জাতীয় ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলা সংগঠক আলিফ চৌধুরীর (১৯) বাম চোখে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইওএইচ) তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অপারেশনের পর বিষয়টি নিশ্চিত করেন এনসিপির সহযোগী সংগঠন নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন।

তিনি জানান, অস্ত্রোপচার সফলভাবে শেষ হলেও আলিফের বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তবে তার ডান চোখ সুস্থ রয়েছে এবং বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন।

অস্ত্রোপচারের আগে আলিফের বাবা-মা বা পরিবারের অন্য কোনো সদস্য হাসপাতালে উপস্থিত না থাকায় চিকিৎসার সম্মতিপত্রে (বন্ড) নিজেকেই স্বাক্ষর করতে হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তুলে ধরেন মনিরা শারমিন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সম্মতিপত্রে উল্লেখ ছিল যে গুরুতর আঘাতের কারণে বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিষয়টি আলিফকে জানানো হলে তিনি শান্তভাবে বলেন, “কোথায় সই করতে হবে? দেন। আমি ভয় পাচ্ছি না। হাসনাত, আসিফ ভাই—যারা দেখা করতে চাইছেন, তাদের অপারেশনের পর আসতে বলবেন, যাতে ভালোভাবে দেখতে পাই।”

মনিরা শারমিন তার পোস্টে আলিফের সাহসিকতার প্রশংসা করে লেখেন, “ছেলেটার ব্যক্তিত্বের কঠোরতার কাছে হেরে গেলাম। পাহাড়সম সাহস ওর। খোদা, চিকিৎসাবিজ্ঞান যেন ভুল প্রমাণিত হয়। তার দুই চোখেরই দৃষ্টিশক্তি থাকুক।”

উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই হবিগঞ্জে এনসিপির একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সময় আলিফ চৌধুরীর চোখে রডের আঘাত লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন, তার বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।

/এএসএফ