• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৪ এএম


আমিরাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে গেছে ৫ হাজার বাংলাদেশিদের ভিসা, আতঙ্কে বাকিরাও!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৯ জুলাই ২০২৬ ১২:২৩ পিএম

হঠাৎ ভিসা বাতিলে বিপাকে আমিরাতপ্রবাসী বাংলাদেশিরা, চরম উৎকণ্ঠা

এক মাসের ছুটি কাটিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মস্থলে ফিরছিলেন নোয়াখালীর প্রবাসী তাহের হোসেন। আট বছর ধরে আবুধাবির একটি লন্ড্রি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এই প্রবাসী বাংলাদেশের ইমিগ্রেশনসহ সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে আবুধাবি পৌঁছালেও দেশটির ইমিগ্রেশনে গিয়ে জানতে পারেন, তার কর্মভিসা বাতিল হয়ে গেছে। ফলে তাকে আর আমিরাতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়েই বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় ফিরে আসতে হয় তাকে।

তাহের হোসেন বলেন, দুই বছর পর পরিবারের সঙ্গে এক মাস কাটিয়ে কাজে ফিরছিলেন। কিন্তু বিমানবন্দরে গিয়ে ভিসা বাতিলের খবর শুনে যেন সবকিছু শেষ হয়ে গেছে বলে মনে হয়েছে। সংসারের খরচ, ঋণের বোঝা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন তিনি চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

তবে এই ঘটনা শুধু তাহেরের নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত প্রায় ১০ লাখের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিকের মধ্যে ভিসা বাতিলের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জানা গেছে, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই অনেকের কর্মভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। ফলে ছুটিতে দেশে আসা অনেক প্রবাসী কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে জানতে পারছেন, তাদের ভিসা আর কার্যকর নেই।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও অনেকের ভিসা বাতিলের ঘটনা ঘটছে। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মস্থলে ফিরতে চাইছেন অনেকে। কিন্তু সেই সুযোগও সহজে মিলছে না। একই সময়ে একমুখী বিমান টিকিটের দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে ৯০ হাজার থেকে প্রায় ১ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। কয়েকদিন আগেও একই টিকিটের মূল্য ছিল ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, বিষয়টি শুধু বাংলাদেশের নয়; পাকিস্তান, নেপালসহ আরও কয়েকটি দেশের কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটছে। ঠিক কী কারণে ভিসা বাতিল হচ্ছে, তা সরকার খতিয়ে দেখছে। তিনি জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ইতোমধ্যে কথা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কূটনৈতিক পর্যায়েও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হবে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ জুলাই থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার ঘটনা সামনে আসতে শুরু করে। দেশে অবস্থানরত কর্মীদের মধ্যে প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিল হয়েছে বলে জানা গেছে। অনেকেই অনলাইনে নিজেদের ভিসার স্ট্যাটাসে ‘ক্যানসেল’ দেখতে পাচ্ছেন। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। ফলে ঠিক কতজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা কেন এমন হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়।

এদিকে আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের আবেদন সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০০টি আবেদন পাঠানো হয়েছে এবং আরও প্রায় ১ হাজার ৪০০টি আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।

রাস আল খাইমাহপ্রবাসী এস এম করিমও একই শঙ্কায় রয়েছেন। গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে দেশে এসে এখন কর্মস্থলে ফিরতে চাইছেন, কিন্তু অতিরিক্ত বিমানভাড়ার কারণে টিকিট কিনতে পারছেন না। তিনি জানান, কয়েকদিন আগেও যে টিকিট ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, এখন একই টিকিটের জন্য ৯৫ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে।

এদিকে আবুধাবির বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, এটি কারিগরি ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, ভিসা সমস্যার সমাধানের নামে কোনো ব্যক্তি, দালাল বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন না করতে। ভিসাসংক্রান্ত যেকোনো জটিলতায় সরকারি ও নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সরাসরি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

/এএসএফ