সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় একটি গানের সঙ্গে নিজের হাঁটার ভিডিও প্রকাশ করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন সিলেটের স্কুল শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল। ভিডিওটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাংশের ট্রল ও সমালোচনার মধ্যে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, গান গাওয়াকে তিনি অন্যায় মনে করেন না। যদিও স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারি নির্দেশনা বা আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো বিষয় রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।
রোববার (২৬ জুলাই) সিলেটে একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, তিনি ভিডিওটি দেখেননি এবং তার কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টও নেই। তবে কয়েকজনের কাছ থেকে তিনি জেনেছেন, একজন শিক্ষিকা গান গেয়ে একটি ভিডিও আপলোড করেছেন এবং সেখানে কোনো অশ্লীলতা নেই।
তিনি বলেন, ‘আমি ভিডিওটি দেখিনি। আমার সোশ্যাল মিডিয়াও নেই। তবে কয়েকজন আমাকে বলেছেন, একজন শিক্ষিকা গান গেয়ে একটি ভিডিও আপলোড করেছেন। এটিতে কোনো অশ্লীলতা নেই।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যদি অশ্লীলতা না থাকে তাহলে গান গাওয়া অন্যায়—এটি আর কেউ মানুক না মানুক আমি মানতে রাজি না। বাকি ভিডিওটি আমি দেখিনি, এটি নিয়ে আমি মন্তব্য করতে পারি না।’
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা বা সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসন।
ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল মোল্লা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই)। ওই দিন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানের সঙ্গে একটি রিল ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে তাকে শাড়ি পরে স্কুল প্রাঙ্গণে হাঁটাহাঁটি করতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাংশের সমালোচনা ও ট্রল শুরু হয়।
অন্যদিকে, বিউটি রানী পালের রিল ভিডিওকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সমালোচনার জবাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মরত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকারাও সংহতি প্রকাশ করছেন। তারা ‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে’ গানটি ব্যবহার করে নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে রিল ভিডিও প্রকাশ করছেন।
/এসএন