তীব্র তাপপ্রবাহ ও দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়ার মধ্যে ইউরোপের ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে দমকল বাহিনী। পরিস্থিতির অবনতির কারণে দুই দেশেই মোট ২ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে উপকূলীয় এলাকা থেকে শুরু হওয়া আগুন ছড়িয়ে বোর্দো শহরের উপকণ্ঠ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। গিরোন্দ ও লঁদ অঞ্চলে প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দাবানলের কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বোর্দো বিমানবন্দর। আগুন নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।
ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ সতর্ক করে বলেছেন, প্রবল বাতাস ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
অন্যদিকে স্পেনে রাজধানী মাদ্রিদের কাছাকাছি তিনটি বড় দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে দুটি আগুন একত্রিত হয়ে আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটি প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে দাবানল জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
স্পেনে প্রায় ৬৩ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে অথবা ঘরের ভেতরে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
স্পেনকে সহায়তা করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমন্বয়ে ইতালি ও গ্রিস থেকে অতিরিক্ত অগ্নিনির্বাপণ উড়োজাহাজ পাঠানো হয়েছে।
এদিকে স্পেনের আভিলা প্রদেশে একটি ক্যাম্পসাইট আগুনে পুড়ে যাওয়ায় প্রায় ২০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ধোঁয়া ও ছাইয়ের কারণে বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার এবং প্রয়োজন হলে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
আবহাওয়াবিদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া এবং শক্তিশালী বাতাসের কারণে ইউরোপে দাবানলের ঝুঁকি ও বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
/এএসএফ