বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নাটকীয় দিন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া তীব্র গণবিক্ষোভের মুখে সেদিন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন। তার দেশ ছাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই হাজারো ছাত্র-জনতা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
সেদিন বেলা আড়াইটার দিকে বঙ্গভবন থেকে একটি সামরিক হেলিকপ্টারে করে দেশ ত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। তার সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির তৎকালীন প্রতিবেদনে বলা হয়, তারা নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন। দেশ ছাড়ার আগে শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে একটি বিদায়ী ভাষণ রেকর্ড করতে চেয়েছিলেন। তবে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির কারণে সেই ভাষণ আর রেকর্ড করা সম্ভব হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগের প্রায় এক ঘণ্টা পর, বিকেল ৩টার দিকে আন্দোলনকারী ও সাধারণ মানুষ গণভবনে প্রবেশ করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই দীর্ঘদিন ধরে কঠোর নিরাপত্তায় থাকা সরকারি বাসভবনটি জনতার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
এ সময় গণভবনের ভেতর থেকে ব্যাপক লুটপাটের দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে প্রবেশ করা অনেককে দামি আসবাবপত্র, টেলিভিশন, ফুলের টব, বালতি এবং ফ্রিজে সংরক্ষিত মাছ-মাংসসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে বের হতে দেখা যায়।
অন্যদিকে, ক্ষমতার এই আকস্মিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সেনাসদর দপ্তরে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের আহ্বানে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুসহ দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন মোড় সৃষ্টি করে এবং দেশটির রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করে।
/এসএন